ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে বড় অঙ্কের অর্থ ঘুষ দেওয়ার মামলায় তার গ্রেপ্তার অনিবার্য। গ্রেপ্তার হলে কি ট্রাম্পের সঙ্গে আসামিদের মতোই আচরণ করা হবে? লিখেছেন নাসরিন শওকত
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চাঞ্চ্যলকর মামলা করেছেন ৪৪ বছর বয়সী স্টর্মি ড্যানিয়েলস। প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্যাটন রজ শহরের বাসিন্দা। স্টেফানি প্রাপ্তবয়স্কদের চলচ্চিত্র (পর্নোগ্রাফি) ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে নাম পাল্টিয়ে হয়ে যান স্টর্মি ড্যানিয়েলস। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। পর্ন তারকা হিসেবে এক সময় নাম-ডাকও ছিল তার।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৬ সালে পর্নো তারকা স্টর্মিকে তার পক্ষ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আসন্ন গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আত্মসমর্পণও করতে বলা হয়।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় স্টর্মি মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে দাবি করেন, ২০০৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে পর্নো এই তারকা এখানেই থেমে থাকেননি, টাকার বিনিময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের প্রমাণ গণমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প তখন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। এমন পরিস্থিতিতে তার আইনজীবী মাইকেল কোহেন স্টর্মিকে চুপ থাকার জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেন। পরে দাবি করা হয়, এই অর্থ প্রদান বেআইনি ছিল না। আবার ট্রাম্প যখন ওই পরিমাণ অর্থ কোহেনকে ফেরত দেন, সেই রেকর্ড বলে যে, সেটিও বৈধ ফি ছিল। কিন্তু সরকারি আইনজীবীরা প্রমাণ করে দেখান যে, স্টর্মিকে ওই অর্থ দেওয়ার প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবসার নকল রেকর্ড দেখিয়ে তা বৈধ করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প, যা একটি অপরাধ এবং নিউ ইয়র্কের আইন অনুসারে তা ফৌজদারি অপরাধ।
আইনজীবীরা দাবি করেন, গোপনে এই অর্থ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করেছেন। কারণ স্টর্মিকে দেওয়া অর্থের বিষয়টি তিনি এই ভেবে গোপন রাখতে চেয়েছেন যে, ভোটাররা যাতে জানতে না পারেন, স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নকল তথ্যপ্রমাণ দিয়ে একটি অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করা আরও গুরুতর অভিযোগ বলে গণ্য। তবে স্টর্মির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। এদিকে সরকার পক্ষের উকিলরাও স্বীকার করেন, এটি সহজ কোনো মামলা নয়। কারণ অতীতে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আনা এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব ছিল। এমন বিচারের নজিরও কম।
ঐতিহাসিক রায়
প্রথমে মামলার শুনানি কয়েক সপ্তাহ মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার দুপুর পর্যন্তও সাবেক মার্কিন এই প্রেসিডেন্টের আইনজীবীদের বিশ্বাস ছিল, সম্ভাব্য এই অভিযোগ থেকে ছোটখাটো ক্ষতিপূরণের বিনিময়েই ছাড়া পাবেন তাদের মক্কেল। কিন্তু নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন জেলা আদালতের অ্যাটর্নি আলভিন ব্রাগের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে অ্যাটর্নি ব্রাগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অভিযোগের শুনানির জন্য গ্রান্ড জুরিকে ম্যানহাটন আদালতে ফিরতে বলেন। গ্রান্ড জুরি অভিযোগের পক্ষে ভোট দেওয়ার ফলে মার্কিন রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করা হয়। বিস্ময়কর এই পদক্ষেপটি এই মামলার তদন্তের চূড়ান্ত মোড় ছিল, যা দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে চলতি সপ্তাহে ইতিহাস তৈরি করা এক অভিযোগে পরিণত হয়েছে।
গত সপ্তাহের শুরুর দিকে এই অভিযোগ চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যখন সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করার রসদ প্রস্তুত করছিল, ঠিক তখনই টাম্প নিজে এক তত্ত্ব ফেঁদে বসেন যে, তিনি ‘গ্রেপ্তার’ হতে পারেন। কিন্তু সেদিন ম্যানহাটনের আদালতে ট্রাম্পের পক্ষের আইনজীবী রবার্ট কস্টেলোর সাক্ষ্যের পরই দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে যায়। বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখিয়ে কস্টেলো যখন ট্রাম্পের সাবেক অ্যাটর্নি মাইকেল কোহেনের সাক্ষ্য এই মামলা থেকে বাতিলের আবেদন জানান, তখনই অ্যাটর্নি ব্রাগ বিরতির বেল বাজান।
একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছে, কস্টেলোর সাক্ষ্যই জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়কে শুনানি কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছিল। আইনজীবীদের মূল বক্তব্য শোনার পর গ্র্যান্ড জুরিদের ভোট দিতে বলা হয়। তার আগে কস্টেলোই শেষ সাক্ষী হওয়া নিয়ে ফের বিরতিতে যান আদালত। পরের দিন গ্র্যান্ড জুরির সঙ্গে বিচারকদের দেখা করার কথা থাকলেও, তাদের আসতে নিষেধ করা হয়। অ্যাটর্নি ব্রাগ ও তার শীর্ষ আইনজীবীরা একটি কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই কৌশলই গ্র্যান্ড জুরিতে কস্টেলোর সাক্ষ্যকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করবে। এরপর তারা আরও দুই প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষীর জন্য ডাকেন। এর মধ্যে সোমবারের শুনানিতে হাজির হন ন্যাশনাল এনকোয়ারার প্রকাশকারী কোম্পানির সাবেক প্রধান ডেভিড পেকার। শুনানির শেষ দিন (বৃহস্পতিবার) ৩০ জনেরও বেশি জুরি উপস্থিত ছিলেন। দুপক্ষের আইনজীবীরা তাদের ভোট দিতে বলার ঠিক আগে অন্য সাক্ষী (পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি) গ্র্যান্ড জুরির সামনে ৩৫ মিনিট সাক্ষ্য দেন।
সূত্র সিএনএনকে আরও জানায়, ট্রাম্প ও তার অ্যাটর্নিরা তখনো চিন্তা করেছিলেন যে, অ্যাটর্নি ব্রাগ হয়তো সম্ভাব্য এই অভিযোগটি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তাই রায় ঘোষণায় তারা সবাই যারপরনাই বিস্মিত হন। তবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প তার স্ত্রী মেলানিয়ার সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেন এবং মারে এ লাগো ক্লাবে কিছু অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় তাকে হাসতেও দেখা গেছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ম্যানহাটনের জেলা অ্যাটর্নির তদন্ত বছরের পর বছর ধরে চলেছে। ২০২০ সালে যখন ট্রাম্পের সংস্থাগুলোর আর্থিক বিবৃতির প্রমাণ মেলে, তখনই এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকে মোড় নেয়। ট্রাম্পের আইনজীবীরা গোপনে অর্থ দেওয়ার নানা আইনি তত্ত্ব নিয়ে বিতর্কজুড়ে দেন তখন। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এসে মনে হয়, দীর্ঘ সময়ের এই তদন্তটি বোধহয় বন্ধই হয়ে গেল। গত বছর বেশ কয়েকজন আইনজীবী পদত্যাগও করেন।
ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ
স্টর্মিকে ঘুষ দেওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পড়ে নিউ ইয়র্কের জেলা অ্যাটর্নি আলভিন ব্রাগের ওপর। একটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত পরিচালনার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করা প্রয়োজন। তাই গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেন তিনি। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্র্যান্ড জুরি যথারীতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত জানায়। তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জানা যায়, আগামীকাল ট্রাম্পকে আদালতে প্রকাশ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। তখন শুনানিতে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হবে।
এরই মধ্যে অ্যাটর্নি ব্রাগ আলোচনার ভিত্তিতে ট্রাম্প ও তার আইনজীবীদের জানিয়ে দিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট কীভাবে ও কখন তার আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার এবং প্রথম শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটিতে যাবেন। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আভাস দিয়েছেন, নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবেন ট্রাম্প। সুতরাং তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে না। এদিকে সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ট্রাম্প পাম বিচ এস্টেটের মার-এ লাগোতে বসবাস করছেন। তাই অভিযুক্ত হওয়া বা ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাকে নিউ ইয়র্ক থানাপুলিশের এখতিয়ারে বা ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। মার্কিন আইনে যেহেতু আর্থিক অপরাধকে ‘হোয়াইট কালার ক্রাইম’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন আসামির আইনজীবী ও সরকার পক্ষের আইনজীবীরা সাধারনত বাড়িতে গ্রেপ্তার করার পরিবর্তে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় বেঁধে দিতে এক চুক্তিতে সম্মত হন। এই বুকিং পদ্ধতিতে চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্ভবত ‘ডেস্ক অ্যাপিয়ারেন্স টিকিটে (ডিএটি) মুক্তি দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ তাকে অভিযোগের সাজা দেওয়ার জন্য পরে আদালতে হাজির হতে হবে।
তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকায় ট্রাম্প কীভাবে নিউ ইয়র্কে পৌঁছবেন, তা অনিশ্চিত। এদিকে নিউ ইয়র্ক সিটি আদালতের এক মুখপাত্র বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টকে আদালতে তোলা হবে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট (পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুসারে)। আদালতে বিচারপতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলো পড়ে না শোনানো পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রকাশ করা হবে না। সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার বাসা থেকে নিজস্ব বিমান ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’-এ করে নিউ ইয়র্কের কোনো একটি এলাকার বিমানবন্দরে সোমবার অবতরণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে মঙ্গলবার গাড়িতে করে ম্যানহাটনের নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে যেতে পারেন। এই কার্যক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্বে সমন্বিতভাবে কাজ করছে এফবিআই, নিউ ইয়র্ক সিটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
গ্রেপ্তারের পর যা হতে পারে
ধারণা করা হচ্ছে, অন্য সন্দেহভাজন আসামিদের মতো ট্রাম্পকে হয়তো গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দিয়ে হেঁটে (পার্প ওয়াক) আদালতে প্রবেশ নাও করতে হতে পারে। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে, আদালত হয়তো তাকে এই অসম্মান থেকে রেহাই দিয়ে গোপনে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারেন।
জানা গেছে, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত অন্য আসামিদের মতোই আচরণ করা হবে। সেক্ষেত্রে আদালতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে ও মুখের ছবি তোলা হবে। ট্রাম্প তার ‘মিরান্ডা রাইটস’ পড়বেন। এর মধ্য দিয়ে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে যে, সাংবিধানিকভাবে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার অধিকার তার আছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
সাধারণত, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের সাময়িকভাবে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাদের মক্কেলকে হাতকড়া পরানো হবে না। ট্রাম্পকে পুলিশ স্টেশনে বা ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে বের করে আনা হবে। এসময় একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে হাতকড়া পরোনোর পরিবর্তে ট্রাম্পের পরনে থাকতে পারে স্যুট ও টাই। গ্রেপ্তারের এই পুরো প্রক্রিয়া চলার সময় গোয়েন্দাকর্মীরা তার সঙ্গে থাকবেন। এমনকি মিডিয়ার উন্মাদনা এড়াতে আইনজীবীদের সঙ্গে একটি চুক্তিও করা হতে পারে, যাতে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে আদালতে প্রবেশ করতে পারেন। আদালতে বিচারপতির সামনে না তোলা পর্যন্ত তাকে অন্য কোনো বদ্ধ জায়গা বা হাজতখানায় আটক রাখা হবে। সাধারণত একটি অপরাধের জন্য কোনো অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে জরিমানা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প যদি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, ট্রাম্পের জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাকে কারাবন্দি রাখার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন তারা।
প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাব্যতা
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর ২০২৪। এ নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়া বা তাকে প্রেসিডেন্ট হতে না দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এমনকি ওই প্রার্থী কারাগারে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। তাই অভিযুক্ত হওয়া বা ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও, ট্রাম্প চাইলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তার প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারবেন। এরই মধ্যে তেমন আভাসও দিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে ট্রাম্প গ্রেপ্তার হলে নিশ্চিতভাবেই তার নির্বাচনী প্রচারণার ওপর এর প্রভাব পড়বে।
