একগুচ্ছ এজেন্ডা নিয়ে আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনাররা বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের এই পর্যন্ত নেওয়া প্রস্তুতি, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার, সাংবাদিক ও গণমাধ্যকর্মীদের জন্য নীতিমালা, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন, কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হবে।
জানা গেছে, রাজধানীর পাশ্ববর্তী গাজীপুর সিটি করপোরেশন দিয়ে নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি। পরবর্তী সময়ে দুই ধাপের প্রথম ধাপে খুলনা ও রাজশাহী সিটি এবং দ্বিতীয় ধাপে বরিশাল ও সিলেট সিটি কপোরেশনের ভোট আয়োজন করবে কমিশন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোটের জন্য আগামী মে মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছে কমিশন সচিবালয়। অন্য ৪টি সিটি করপোরেশনের জন্য কয়েকটি তারিখ সম্ভাব্য রেখে প্রস্তাব তোলা হচ্ছে বৈঠকে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ইভিএম ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে একগুচ্ছ এজেন্ডা নিয়ে বৈঠক হবে। বেশ কিছু প্রস্তাব বৈঠকে পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে এ পর্যন্ত ইসির প্রস্তুতি কতটুকু সেটি নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীতে করণীয় কী সেটির একটি প্রস্তাবও ইসি সচিবালয় কমিশন সভায় পেশ করবে। এতে ২ মার্চ ভোটার তালিকা প্রকাশ, ৩শ সংসদীয় আসনের সীমানার খসড়া ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ, নতুন রাজনৈতিক দল ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, নির্বাচনে অধিকতর প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। আলোচনা শেষে এসব বিষয়ে ইসি সচিবালয়কে পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেবে কমিশন।
ইসির এক কর্মকর্তা জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে। পরবর্তী খুলনা ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনের জন্য জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ রাখা হয়েছে। আর অবস্থা বুঝে বরিশালের ভোট জুন মাসের শেষ সপ্তাহে এবং পরবর্তী মাসে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট আয়োজনের প্রস্তাব করেছে ইসি সচিবালয়।
সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে পুরোপুরি নষ্ট ৪০ হাজার কোনোভাবেই মেরামত করা যাবে না। বাকি এক লাখ ১০ হাজার ইভিএম মেরামত করতে ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা লাগবে। সবগুলো মেশিনের ব্যাটারি পরিবর্তন, অনেকগুলোর ক্যাবলসহ কিছু মেশিনের বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হবে। বিএমটিফের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তির বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সবগুলো সিটি করপোরেশনে ইভিএমে ভোট হবে। এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে তা চূড়ান্ত করা হতে পারে। প্রতিটি আসনে ভোটার সংখ্যা কমবেশি হওয়ার বিবেচনায় এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ মেশিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। যে কয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেই সংখ্যা অনুযায়ী ইভিএম মেরামতের করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিমাণ মেরামতে কত অর্থ ব্যয় হতে পারে তার একটি খসড়া আগামী অর্থবছরের বাজেটে চাওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।
