বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, আদালত, শপিং মল, গার্মেন্ট ও শিল্পকারখানা, সরকারি-বেসরকারি কর্মস্থলসহ জনসমাগম (পাবলিক প্লেস) হয় এমন স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং (মাতৃদুগ্ধ দান) কর্নার স্থাপনে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। তিন বছরের বেশি সময় আগে এ বিষয়ে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রবিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে হাইকোর্টের এ রায় বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
জনসমাগম হয় এমন সব স্থানে মাতৃদুগ্ধ কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী ও তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, জনসমাগম হয় এমন স্থানে দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মায়েরা বুকের দুধ পান করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন। তাই সব পাবলিক প্লেসে নারী ও শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে মাতৃদুগ্ধ দান কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রুল দেয় হাইকোর্ট।
রুলে সরকার পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, শপিং মল, হাসপাতাল, আদালত, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনসমাগম স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চায় আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট রাশিদুল হাসান।
অ্যাডভোকেট ইশরাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিট আবেদন ও রুলের ধারাবাহিকতায় একটি সম্পূরক আবেদন করা হলে ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে গার্মেন্ট কারখানাসহ দেশের সব কলকারখানায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার বা বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের নির্দেশ দেয়। এ জন্য শ্রম সচিব ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৬০ দিনের সময় দেয় হাইকোর্ট। তবে ওই বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে আদালত বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে আদেশ বাস্তবায়ন জটিলতায় পড়ে। এরপর ওই বছরের অক্টোবরে পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপি প্রকাশ হয়। হাইকোর্টের রুল এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পর এই কয়েক বছরে এ নিয়ে সাড়া পড়ে। ইতিমধ্যে সারা দেশে বিভিন্ন জেলার আদালত, রেলস্টেশন, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিসহ অসংখ্য জনসমাগমস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের এ রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি কর্মস্থলসহ সব পাবলিক প্লেসে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে এ কর্নার স্থাপন করতে হবে। তবে এটি শুধু স্থাপন করাই নয়, ওই কর্নারে যাতে নারী ও শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
