ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও কারাবন্দি সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তারা প্রথম আলো ও যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
রোববার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ৪৮ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা, সম্প্রতি দেশে মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এই বিবৃতি প্রকাশ করছে। নওগাঁয় র্যাব হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন সুলতানা জেসমিন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেমে থাকছে না। নাগরিকদের বিচারবহির্ভূতভাবে নিপীড়ন চলছেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনকে ঘিরে রাতের আঁধারে সাদাপোশাকধারী পুলিশ প্রতিবেদককে ধরে নিয়ে যায়। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই আইনে যুগান্তরের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও চট্টগ্রামে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই আইন যখন প্রবর্তন করা হয় এবং পরেও সরকারের মুখপাত্ররা বারবার বলেছেন যে এটি সাংবাদিকদের ওপর প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু এটি সবচেয়ে বেশি যে পেশার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক অন্যতম। সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের ওপরও এটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ হয়েছে। কর্তৃত্ববাদী সরকার এই আইন প্রবর্তন করেছে সমালোচকদের নিপীড়ন করে জনমানসে ভয় সৃষ্টির জন্য।
তারা জানান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে ৫৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬২তম। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর সূচকে অবস্থান কেবলই পিছিয়েছে, কখনো এগোয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে বেআইনিভাবে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ না করে সরকারের এই কাণ্ডের পক্ষে নির্জলা তোষামোদী বক্তব্য হাজির করেছে, যা আমাদের চরমভাবে লজ্জিত এবং মর্মাহত করেছে! শিক্ষকদের অধিকার আদায় ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হলেও, শিক্ষকদের দাবিদাওয়ায় তাদের মনোযোগ নেই। কোনো শিক্ষক কোনো হুমকি বা নিপীড়নের শিকার হলেও এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কোন সক্রিয়তা দেখা যায় না।
শিক্ষক সমিতির সমালোচনা করে তারা বলেন, ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতন একটা প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে। কিন্তু সে বিষয়েও শিক্ষক সমিতির কোনো বক্তব্য নেই। শিক্ষক সমিতি কিছু শিক্ষকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠনের একটা মাধ্যমে পর্যবসিত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তারা নিজের রাজনৈতিক এবং পেশাগত উচ্চাশা পূরণের পথ সুগম করতে চেষ্টা করেন। বিনিময়ে তারা সমাজের কাছে পুরো শিক্ষকতা পেশার মান-মর্যাদাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিতে কার্পণ্য করছেন না।
