চিকিৎসকের হাত ধরে ভিন্নধারার স্কুল

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১১:১৭ পিএম

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্যতিক্রমী একটি স্কুল খুলে ব্যাপক প্রশংসিত হন ইতালির চিকিৎসক মারিয়া মোন্তেসরি। ব্যতিক্রমী এই অর্থে, স্কুলটির শিক্ষাপদ্ধতি গতানুগতিক নয়। ওই শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করে এমন স্কুলের সংখ্যা এখন ৬০ হাজারের মতো। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

মোন্তেসরি স্কুল

সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, গায়ক টেইলর সুইফট, রাঁধুনি জুলিয়া চাইল্ড, গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গে ব্রিনের নাম অনেকে শুনেছেন। বিশ্ববিখ্যাত এই মানুষদের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল আছে, তা কি কেউ জানেন? মার্কেজ, সুইফট, চাইল্ড, পেজ বা ব্রিন এরা প্রত্যেকেই ছোটবেলায় মোন্তেসরি স্কুলের ছাত্র ছিলেন। শিল্পকলা ও প্রযুক্তি জগতে এই স্কুলের প্রভাব অনস্বীকার্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী মোন্তেসরি স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতির প্রশংসা করতেন। তিনি বলেছিলেন, এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ভার বইতে হয় না। খেলতে খেলতে তারা অনেক কিছু শিখে যায়। এক শতাব্দীরও বেশি আগে ইতালির চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ মারিয়া মোন্তেসরি স্কুল গড়ে তোলার সময় গতানুগতিক চিন্তা করেননি। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে শিশুরা মুক্তভাবে চিন্তা করবে, আত্মনির্ভরশীল হবে। স্বাধীনতার মানে তাদের বোঝাতে হবে, তবে তা ভিন্নভাবে। ব্যতিক্রমী স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ইতালির ফ্যাসিস্ট সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে কুণ্ঠাবোধ করেননি মোন্তেসরি।

পারিবারিক শিক্ষা

১৮৭০ সালে ইতালির কিয়ারাভাল্লি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন মোন্তেসরি। তার মা-বাবা প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন। ইতালির সেই সময়ের সামনের সারির চিন্তাবিদ ও পণ্ডিতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাদের। আলোকিত পারিবারিক পরিবেশ মোন্তেসরিকে ছেলেবেলা থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়, যা তার বয়সী অন্য মেয়েরা কল্পনাই করতে পারত না। ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অপেরা নাৎসিওনালে মোন্তেসরির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এলিদে তাভিয়ানি বলেন, ‘জীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মারিয়া মোন্তেসরি। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে তার মা সবসময় তার পাশে ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর টেকনিক্যাল স্কুলে ভর্তি হওয়া এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে অন্যতম। এছাড়া মোন্তেসরির চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্তেও তার মা-বাবা তাকে পূর্ণ সমর্থন দেন। সে সময় চিকিৎসাশাস্ত্রে নারীদের পড়তে দেখা যেত না। ওই জগৎ পুরুষদেরই দখলে ছিল। মোন্তেসরির পরিবার সামাজিক নানা বিষয়ে বেশ সংবেদনশীল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে নারী জাগরণের কথা বলা যায়। মোন্তেসরি নিজেও পরিবারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে নারীদের মুক্তি, তাদের জাগরণ নিয়ে কাজ করেন। ওই যুগের নারীরা মোন্তেসরিকে শ্রদ্ধা করতেন, তার কাজকে সমীহ করতেন। অপেরা নাৎসিওনালে মোন্তেসরির প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া মোন্তেসরি স্বয়ং। তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়।

১৮৯৬ সালে স্নাতক পাসের পর রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকে ভলান্টারি অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করা শুরু করেন মোন্তেসরি। পড়ালেখা করতে সমস্যা হয়, এমন শিশুদের দেখভাল করাই তার দায়িত্ব ছিল। যে কক্ষে শিশুদের নিয়ে তিনি কাজ করতেন, সেখানে আসবাবপত্র তেমন একটা ছিল না বললেই চলে। ওই কক্ষে একদিনের একটি ঘটনা মোন্তেসরির মনে দাগ কাটে। সেদিন হঠাৎ মাটিতে কিছু পাউরুটির টুকরো পড়ে যায়। মোন্তেসরি লক্ষ করেন, সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের শিশুরা সেসব টুকরো নিয়ে খুব আনন্দের সঙ্গে খেলছে। স্পেনের নাভারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি অ্যান্ড এডুকেশন বিভাগের গবেষক ও দ্য ওয়ান্ডার অ্যাপ্রোচ বইয়ের লেখক ক্যাথরিন লিকুয়ের বলেন, ‘ওই দৃশ্য দেখে মারিয়া মোন্তেসরির উপলব্ধি হয়, শিক্ষার সঠিক উপকরণ দিয়ে শিশুদের গড়ে তোলা সম্ভব। তার সেদিনের পর্যবেক্ষণ তাকে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।’ শৈশবের সংবেদনশীল সময়ে শিশুদের সবরকমভাবে উদ্দীপ্ত করায় জোর দেয় মোন্তেসরির নতুন ওই পদ্ধতি। এটির প্রধান নীতি ছিল, শিশুদের সব ধরনের শিক্ষার উপকরণের আকার ছোট হতে হবে এবং এসব উপকরণ এমন হতে হবে যাতে সেগুলো শরীরের সব ইন্দ্রিয়কে নাড়া দেয়। পাশাপাশি স্কুলে প্রতিটি শিশুকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ক্রিয়া করার অনুমতি দিতে হবে। একই সঙ্গে তাকে তার সৃজনশীল ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কাজে লাগাতে দিতে হবে। শিক্ষকরা এক্ষেত্রে গাইডের ভূমিকা পালন করবেন। তবে তারা শিশুদের কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ বা তাদের ওপর জোর খাটাতে পারবেন না।

প্রতিকূলতা

১৯০৭ সালে প্রথম চিলড্রেন্স হাউজ নামে স্কুল খোলেন মোন্তেসরি। পরে ওই স্কুলের আরও অনেক শাখা হয়। ওই সময় মোন্তেসরি মহাত্মা গান্ধীসহ বিশ্বের জ্ঞানী মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। মজার বিষয় হলো, ১৯২২ সালে  ইতালিতে যখন ফ্যাসিস্ট রাজত্ব কায়েম হয়, তখন ফ্যাসিস্টরা মোন্তেসরির চিন্তা ও পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। কিন্তু দ্রুতই তারা তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা শুরু করেন। ফ্যাসিস্টরা চাইতেন না, শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হোক। অপেরা নাৎসিওনালে মোন্তেসরির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য তাভিয়ানি বলেন, ‘মানুষকে সম্মান দেওয়ার পক্ষে, নারী-শিশুদের অধিকারের পক্ষে ছিলেন মোন্তেসরি। ফ্যাসিস্টরা তার কাজ ভ-ুল করতে চাইতেন।’ ইতালির ফ্যাসিস্ট সরকার একপর্যায়ে মোন্তেসরির স্কুলের পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তুতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে পড়ে। ১৯৩৪ সালে মোন্তেসরি ও তার ছেলে ইতালি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৭ সালে তারা দেশে ফেরেন। এরপর মোন্তেসরি তার স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি উন্নীত করার কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। এই কাজ তিনি করে যান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। ১৯৫২ সালে ৮১ বছর বয়সে এই মহীয়সী নারীর মৃত্যু হয়।

ব্যবহারিক ক্লাস

এখন দেশে দেশে বিভিন্ন ধরনের মোন্তেসরি স্কুল আছে। এসব স্কুলের সবগুলোই অবশ্য অপেরা নাৎসিওনালে মোন্তেসরি স্বীকৃত নয়। তা না হলেও তাদের মূল নীতি একই আছে। এসব নীতির একটি, শিক্ষককে স্নেহশীল গাইড হতে হবে। তারা শিশুদের তাদের কাজ শেষ করতে উৎসাহ দেবেন। খুব প্রয়োজন না পড়লে শিশুদের কাজে শিক্ষকদের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। ইতালির সিসিলি অঞ্চলের পালেরমো শহরের ইকোসকুয়োলা মোন্তেসরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিরিয়াম ফেরো বলেন, ‘আমাদের স্কুলে কয়েক মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের স্বাগত জানানো হয়। আমাদের শিশুরা নিজেদের পরিচালিত করতে শেখে।’ ইকোসকুয়োলা মোন্তেসরি স্কুলের কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে সিসিলির অন্য প্রি-স্কুল ও স্কুলের বিষয়ের মিল আছে। যেমন গণিত ও সংগীত। তবে এটাও ঠিক, নতুন বিষয় যেমন যুক্ত করা হয়েছে, তেমনি পুরনো বিষয়ও বাদ দেওয়া হয়নি সেখানে। মারিয়া মোন্তেসরি যখন প্রথম স্কুল স্থাপন করেন, সে সময় ব্যবহারিক জীবন বলে একটি বিষয় ছিল, যা আজও মোন্তেসরির সব স্কুলে আছে। ব্যবহারিক জীবন ক্লাসে শিশুদের ব্যবহারিক কাজ করতে দেওয়া হয়। যেমন ক্লাসমেটদের পানীয় পরিবেশন করা। নিরাপত্তার স্বার্থে পানি গরম করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। তবে মূল কাজ শিশুদেরই করতে হয়। তারা টেবিল-মেঝে পরিষ্কার করে তারপর পানীয় পরিবেশন করে। ইকোসকুয়োলা মোন্তেসরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফেরো বলেন, ‘প্রাতরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের সময় বাচ্চারা নিজেরাই সব কিছু করে। টেবিল বসানো থেকে শুরু করে ক্লাসমেটদের খাবার পরিবেশন তারা নিজেরা করে। শিক্ষকদের সহযোগিতা তাদের দরকার পড়ে না।’

শিক্ষাপদ্ধতির সুফল

মোন্তেসরির শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, এমন স্কুলের সংখ্যা এখন বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ৬০ হাজার। এই পদ্ধতি একদিকে যেমন শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায়, তেমনি এটি তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্পর্কেও ধারণা দেয়। মারিয়া মোন্তেসরির শিক্ষাপদ্ধতি যেসব স্কুল অনুসরণ করে, সেগুলোতে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের এক ক্লাসে বসানো হয়। তাদের আলাদা কোনো ক্লাস নেই। এর ফলে ছয় বছর বয়সী কোনো শিশু তিন বছরের শিশুকে কাজে সাহায্য করতে পারে। মোন্তেসরি স্কুলে শিশুদের কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয় না। গ্রেড সিস্টেমও সেখানে নেই। পরীক্ষা বা গ্রেড সিস্টেম না থাকায় শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মধ্যে বড় হতে হয় না। তাদের প্রতিটি সেশন তিন ঘণ্টার। এই দীর্ঘ সময়ে শিশুরা তাদের কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার সুযোগ পায়, তারা যা করতে চায়, তা শেষ করতে সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। স্কুলগুলোতে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে এমন এমন জিনিস রাখা হয় যাতে শিশুরা ইন্দ্রিয় দিয়ে শিখতে পারে। যেমন তাদের জন্য অক্ষর ও সংখ্যা শিরিষ কাগজ দিয়ে বানানো হয়। আঙুল দিয়ে ওই কাগজ স্পর্শ করে অক্ষর বা সংখ্যার সঙ্গে পরিচিতি ঘটে খুদে শিক্ষার্থীদের। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রচলিত স্কুল থেকে একেবারে আলাদা মোন্তেসরি স্কুলের ক্লাসরুমগুলোতে যা শেখানো হয়, তা কি শেষ পর্যন্ত শিশুদের উপকারে আসে? প্রশ্নটি সহজ মনে হতে পারে যদিও উত্তর বেশ জটিল। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মোন্তেসরি স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি শিশুদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই বিকাশে কি মোন্তেসরি স্কুলের বিশেষ শিক্ষাপদ্ধতির অবদান আছে নাকি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল পরিবারের সন্তান এ কারণে তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড তাদের বিকাশে সহায়তা করে, এ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকি শহরের একটি মোন্তেসরি স্কুল নিয়ে গবেষণা করেন দেশটির ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যাঞ্জেলিন লিলার্ড। স্কুলটির পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেন, অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের তুলনায় মোন্তেসরি স্কুলেরি শিক্ষার্থীদের অক্ষর ও সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা বেশি। এছাড়া তাদের মধ্যে কাজ করার দক্ষতা, মেলামেশার দক্ষতা ও গল্প বলার ক্ষমতা প্রচলিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি। ইংল্যান্ডের গবেষণা সংস্থা ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক ক্লোয়ি মার্শালের মতে, মোন্তেসরি স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি শিশুদের জন্য কল্যাণকর। তিন ঘণ্টা দীর্ঘ প্রতিটি সেশনে তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের কাজ মন দিয়ে করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের পরিচালিত করার সুযোগ পায়। সুইজারল্যান্ডের লুজান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিউরোসায়েন্টিস্ট সোলাঞ্জ ডেনেভোর্ড মোন্তেসরি স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতিকে মার্শালের মতোই ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ডেনেভোর্ড দেখেন, মোন্তেসরি স্কুলের বাচ্চারা বেশ সৃজনশীল চিন্তাভাবনার অধিকারী। তার মতে, স্কুলে খুব অল্প বয়সে শিশুরা অন্যের ওপর খুব বেশি ভরসা না করে নিজেরা শেখে, সমস্যার সমাধান তারা নিজেরা করে এসব কর্মকাণ্ড তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সহযোগিতা করে। চিন্তার ক্ষেত্রে তারা রক্ষণশীল বা গোঁড়া থাকে না। সমস্যা সমাধানের পথে কোনো ভুল করলে তারা তাদের আগের চিন্তা বাদ দিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করে। এভাবে ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মধ্য দিয়ে মোন্তেসরি স্কুলের শিশুরা নিজেদের গড়ে তোলে। ডেনেভোর্ড বলেন, ‘যারা অল্প বয়সে নমনীয় হয়, নিজেদের আগ্রহে কাজ করতে ও অন্যদের সহযোগিতা করতে শেখে, বড় হওয়ার পর জীবনের অনেক কিছু তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত