সমানতালে মুনাফা বাড়ে সরকার ও বিএটিবির

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৪৪ পিএম

প্রতি বছর বাজেটের আগে সিগারেটের দাম তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে। সরকারও রাজস্ব আয় বাড়াতে নিয়মিতভাবে সরকার সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ায়। এতে করে ধূমপায়ীদের খরচ বাড়লেও সরকার লাভবান হচ্ছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সিগারেটের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করা হয়, তা কখনোই পূরণ হয় না। বরং দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিগারেট বিক্রির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তবে সিগারেট বিক্রির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে বাড়ছে তামাক কোম্পানির মুনাফা। দেশের সবচেয়ে বড় তামাক উৎপাদনকারী কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

দেশের সিগারেটের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি বিএটি বাংলাদেশের হাতে। সরকার প্রতিবছর সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ানোয় তামাক কোম্পানির মুনাফাও সমানতালে বাড়ছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক দশকে সিগারেট বিক্রির ওপর সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় বেড়েছে ৩৪২ শতাংশ। একই সময়ে বিএটি বাংলাদেশের নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ শতাংশ।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে বিএটি বাংলাদেশের মোট আয় ছিল ৯ হাজার ১৭ কোটি টাকা, যা ২০২২ সালে ৩৬ হাজার ১৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক দশকে কোম্পানির মোট আয় বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। এ সময়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ৬ হাজার ২৭০ কোটি টাকা থেকে ২৭ হাজার ৭২২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ খাতে এনবিআরের আয় বেড়েছে ৩৪২ শতাংশ।

২০১২ সালে বিএটি বাংলাদেশের সিগারেট বিক্রি থেকে নিট আয় ছিল ২ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা, যা এক দশক পর ২০২২ সালে ৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে আয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ২০৬ শতাংশ।

বিএটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সিগারেটের বিক্রি ও মূল্য বাড়ায় কোম্পানির নিট মুনাফাও উচ্চ হারে বাড়ছে। ২০১২ সালে বিএটি বাংলাদেশের নিট মুনাফা ছিল ৩৯৪ কোটি টাকা, যা ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। গত এক দশকের ব্যবধানে কোম্পানির নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ শতাংশ। আকর্ষণীয় মুনাফার কারণে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর অন্যতম সেরা কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে বিএটি বাংলাদেশ।

ধূমপায়ীর সংখ্যা কমাতে ধূমপায়ীবিরোধী সংগঠনগুলো প্রতিবছরই বাজেটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। সিগারেটের দাম বাড়াতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে। কিন্তু এসব সংগঠনের ব্যাপক তৎপরতার পরও ধূমপায়ীর সংখ্যাকমেনি, বরং তা বছর বছর বেড়ে চলেছে। বিএটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৯১ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করে। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৫৪ কোটি স্টিক। আর ২০১৭ সালে বিএটি বাংলাদেশ ৫ হাজার ৩২০ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করে। ২০১৮ সালে বিক্রি কিছুটা কমে ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৫০ লাখ স্টিকে নেমে আসে। আর ২০১৯ সালে সিগারেটের দাম আরও বাড়ায় বিক্রি নেমে আসে ৫ হাজার ৭৪ কোটি ৪০ লাখ স্টিকে। তবে এরপর তা আবার বেড়ে গিয়ে ২০২১ সালে ৬ হাজার ৩০০ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি, ২০২২ সালে যা ৬ হাজার ৫৪৪ কোটি ৬০ লাখ স্টিকে উন্নীত হয়। 

সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির তামাক পাতা রপ্তানি থেকে আয়ও বেড়েছে। ২০২২ সালে বিভিন্ন দেশে তামাক পাতা রপ্তানি করে বিএটি বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৫৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ২৭২ কোটি টাকা। অবশ্য তামাক পাতা রপ্তানিতে আয় বাড়লেও প্রস্তুত সিগারেট রপ্তানি আয় এ সময়ে কমেছে।  

সর্বশেষ হিসাব বছরে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশি^ক পরিস্থিতির কারণে বিএটি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা বেড়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৫ শতাংশ। ২০২২ সালে উৎপাদন ব্যয় হয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ৩ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত