বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ০২:২৩ এএম

গত দুই মাসের বকেয়া বেতন, এক বছরের ছুটির টাকা এবং ঈদ বোনাসের দাবিতে গত রবিবার রাত থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। কারখানার সুয়িং সেকশনের অপারেটররা জেনারেটর বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে সুয়িং, ডাইং, নিটিং সেকশন বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। গতকাল সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শ্রমিকরা জানান, গত দুই মাসের বকেয়া বেতন, এক বছরের ছুটির টাকা বকেয়া রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন রবিবার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেতন দেয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এর আগেও কয়েকবার বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন ওই কারখানার শ্রমিকরা।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন গত ১৯ মার্চ পরিশোধ করার কথা ছিল। মালিকপক্ষ নির্ধারিত তারিখে বেতন পরিশোধ না করে ২৩ মার্চ দিন ধার্য করে। পরে ওইদিন বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে ফের ২৯ মার্চ দিন ধার্য করে। যে কারণে ফ্যাক্টরির নিটিং সেকশনের শ্রমিকরা বকেয়ার দাবিতে কাজ বন্ধ করে হইচই শুরু করেন। খবর পেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর অফিসার ও ফোর্স ফ্যাক্টরিতে গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানায় নিটিং সেকশনের শ্রমিকদের ৩০ মার্চ এবং সুইং, ফিনিশিং, গার্মেন্টস ও আয়রন সেকশনের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ২ এপ্রিল পরিশোধ করা হবে। কিন্তু মালিকপক্ষ নিটিং সেকশনের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করলেও বাকিদের দেওয়া হয়নি। এতে শ্রমিকরা রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় কাজ বন্ধ করে ফ্যাক্টরির ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সিসি ক্যামেরা, জানালা ও গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ কেএম আশরাফ বলেন, শ্রমিকরা বকেয়ার দাবিতে রবিবার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করে। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গতকাল সকাল ১০টায় বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা থাকলে কর্তৃপক্ষ দেয়নি। পরে সময় বাড়িয়ে দুপুর ২টা সিদ্ধান্ত দেয় কিন্তু সে কথাও ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ রাখতে পারেনি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু তারা কেউই ফোন রিসিভ বা কোনোভাবে যোগাযোগ করছে না। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে আছে। তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বারবারই শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত