পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। তবে নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।
গতকাল সোমবার জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতা আমাদের নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আমরা যথেষ্ট পরিপক্ব। নির্বাচন করার জন্য যেসব ইনস্টিটিউশন দরকার, সুন্দর, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সেই ইনস্টিটিউশন আমরা মোটামুটি তৈরি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করেছি। বায়োমেট্রিক ভোটার তালিকা, যাতে কোনো ধরনের ফ্রড বা ভুয়া ভোট না হয়। আমরা একটা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছি। তারা যথেষ্ট সক্ষমতা রাখে। সে জন্য আমাদের অন্যদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’
র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি হাসির খোরাক আরকি। তারা (র্যাব) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না। নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে র্যাব।’
জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে প্রথম আলোর সাংবাদিক গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটিও আসে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমাদের তথ্যমতে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, শিশুকে ব্যবহার করার জন্য। শিশুকে নির্যাতন করেছেন, অপব্যবহার (অ্যাবিউজ) করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় ইস্যু হলো, তিনি আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে তামাশা করেছেন। আমরা চেতনার সবচেয়ে বড় ধন স্বাধীনতা। ওটা নিয়ে তামাশা করবেন, তা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ গ্রহণ করবে না।’
অপরাধ করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পার পাওয়া যাবে না বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকের নাম দিয়ে অপরাধ করবেন, এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। সাংবাদিক হলেও অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চাই, কিন্তু কেউ অপরাধ করে পার পাবেন না।’
সাংবাদিক শামসুজ্জামান ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবৃতিতে কোন সোর্স থেকে শিশু নির্যাতনের বিষয়টি যুক্ত করা হলো জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা ছবি দেখেছি না। আপনি ছবি দেখেছেন না? শিশু নির্যাতনের জন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’
