ওয়ার্কশপ মালিককে কুপিয়ে হত্যা, শ্রমিক জখম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মেরাজুল ইসলাম জয় (২৩) নামের এক ওয়ার্কশপ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আহত ওয়ার্কশপ শ্রমিক আল আমিনকে (২১) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রূপালী আবাসিক এলাকায় আয়মান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মিয়া ও তার ভাতিজা সোয়েব আহমদ সৌরভের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সালেহনগর এলাকায় কাউন্সিলর শাহীন মিয়ার বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করেছে।

নিহত মেরাজ ছালেহনগর এলাকার আজহারুল ইসলাম এজা মিয়ার ছেলে। আহত আল আমিন রূপালী আবাসিক এলাকার জাভেদ মিয়ার ছেলে। মেরাজ ওই ওয়ার্কশপের মালিক। আর আল আমিন সেখানে কাজ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার ইফতারের সময় মুখে কাপড় বাঁধা ৭-৮ যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই দুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেরাজের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাউন্সিলর শাহীন মিয়ার বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমিন এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। এতে আল আমিন বলেন, ‘ওয়ার্কশপে মেরাজ কাজ করছিল। আমি ওর সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ করে তিনটি গাড়ি আসে। প্রথমে কাইল্লা রানা ও রূপালী আবাসিক এলাকার মানিক এসে মেরাজকে ধরে ফেলে। পরে ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীনের ভাগনে সৌরভ, পিংকি, চুইল্লা রাজু, অপু এসে আমাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। কাউন্সিলর শাহীন মিয়া গাড়িতে বসে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা যখন আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিলাম তখন কাউন্সিলর শাহীন হামলাকারীদের বলছিলেন, সবাই এসে পড়ো আর দেখো ওরা মরছে কি না? তখন ওরা লাথি দিয়ে দেখছিল আমাদের প্রাণ গেছে কি না। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, মেরাজ নামের এক যুবক মারা গেছেন। আর আল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কে বা কারা এ হামলা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর শাহীনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ওয়ার্ড সচিব এনামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর শাহীন মিয়াকে রাত থেকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত