৫০০ উইকেট চান তাইজুল

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৪১ এএম

বাংলাদেশে টেস্ট স্পেশালিস্ট বেশি নেই। তাদের তালিকায় শীর্ষেই থাকবেন তাইজুল ইসলাম। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের ‘অটোমেটিক চয়েজ’। শুধু একাদশে থাকাই নয় দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। বল হাতে টেস্টের বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন লিকলিকে শরীরের এই স্পিনার। তবে এতে অতৃপ্ত তাইজুল। দেশের সেরা রেকর্ডটা চাই তার। সেটা টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার। তাইজুল লক্ষ্য রেখেছেন লাল বলে ৫০০ উইকেট শিকারের। কাল সংবাদ সম্মেলনে হাসিমুখে এ স্বপ্নই দেখে গেলেন।

৩৯ রানে ৮ উইকেট, বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড তার। মাত্র ২৫ টেস্টে ১০০ উইকেট পূর্ণ করে দেশের দ্রুততম উইকেটের সেঞ্চুরিয়ান তাইজুল। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বেশি সংখ্যক ওভার করে পথচলা শুরু তার। উইন্ডিজের বিপক্ষে ওই ইনিংসে ৪৭ ওভার বল করেছিলেন। অভিষেক ইনিংসে ৫ উইকেটও নিয়েছিলেন। আবার সবচেয়ে বেশি ওভার করার রেকর্ডও তার। ২০১৮ সালে ৬৭.৩ ওভার বল করেছিলেন তাইজুল। অবশ্য টেস্ট দলে তাইজুলের চাহিদাটা ভিন্ন জায়গায়। দলের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাইজুল তখনই উপস্থিত। ব্যাট হাতেও কিছু রান করে দিয়ে যান। আবার প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দেন। সময়ের সঙ্গে তাইজুল নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অভিজ্ঞতা দিয়ে। সেই অভিজ্ঞতার ভারেই কাল টেস্টে ১১তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন। সাকিব আল হাসানের (১৮ বার) পর বেশি সংখ্যকবার ৫ উইকেট তার।

আর এজন্যই তাইজুলকে ‘আন সাং হিরো’ও বলা হয়। ঠিক যেমন ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সাকিব আল হাসানের ছায়ায় পড়ে নিজের সঠিক প্রাপ্যটা পাচ্ছেন না এই বাঁহাতি পেসার। অথচ সাকিবের নিষিদ্ধ থাকা এক বছরে যখন টেস্টে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বেশি চিন্তা ছিল তখন অনায়াসে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তাইজুল। সাফল্যের সঙ্গেই তা পালন করে গেছেন। আর এখন সাকিব নিজেও তার ওপর ভরসা রাখেন। টেস্টে ভরসার পাত্র হওয়ায় স্পিন আক্রমণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয় তাইজুলকে। সেই সুবাদে বড় স্বপ্ন দেখছেন ১৭১ উইকেট নেওয়া এ স্পিনার, ‘মন তো চায় ৫০০-৬০০ উইকেট নেই। বয়স হইছে ঠিক কিন্তু বুড়ো হয়ে যাই নাই তো।’

তাইজুল এখন কঠিন উইকেটেও ৫ উইকেট আদায় করছেন। কাল যেমন মিরপুরের উইকেটে ব্যাটাররা চাইলে লম্বা ইনিংস খেলতে পারত। কিন্তু ভুল করলে বোলাররা তো উপকৃত হবেনই। তাইজুল সেই সুযোগ নিয়েছেন আইরিশ ব্যাটারদের ফাঁদে ফেলে। এই অভিজ্ঞতা বিদেশে কঠিন উইকেটে বল করা সহজ করে দেবে বলে মনে করেন তাইজুল, ‘অবশ্যই এটা ভালো লাগার বিষয় যে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছি। আর এমন উইকেটে ৫ উইকেট নেওয়া কঠিন। কিন্তু সেই কাজটা করতে পেরেছি বলে খুব ভালো লাগছে। এই অভিজ্ঞতাটা ভবিষ্যতে বিদেশে আমার জন্য কাজে দেবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত