ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাল যাচ্ছেন

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৪৪ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আগামীকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। ১০ এপ্রিল সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এমন বার্তা দিতে তিনি এ সফরে যাচ্ছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জানান, তিনি ব্লিঙ্কেনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আমেরিকাও চায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।’

নির্বাচন ছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাণিজ্য বাড়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন নিয়ে জাপানি চিত্রকলা ‘মাঙ্গা’ ফর্মে কমিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. মোমেন।

তিনি বলেন, ‘দুই বছর কভিডের জন্য আমাদের আনাগোনা কম ছিল। আর আমাদের সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছে। আমি আগামী পরশু (শুক্রবার) যাব। তাদের দাওয়াত আমি সানন্দে গ্রহণ করেছি।’

এ সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা খুব ভাগ্যবান। কারণ পরপর তিনবার তার দাওয়াত পেলাম।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধুদেশ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধুদেশ। তারা আমাদের বড় বিনিয়োগকারী দেশ। সেখানে আমাদের অন্যতম রপ্তানি গন্তব্য।’

নির্বাচন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হবে এ প্রশ্নে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স করেছি। আগে ভুয়া হতো। এখন যেন না হয়, সে জন্য আমরা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। সরকার অবশ্যই কমিশনকে সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সাহায্য ছাড়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সব দলকেই সহযোগিতা করতে হবে। আর নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করব। কারও অন্য ধরনের কোনো চিন্তা থাকলে ভুল চিন্তা। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী।’

বাংলাদেশকে অন্য দেশের গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছি। ৭০-৭১ সালে যখন গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যাত হয়, তখন আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে গণতন্ত্র সমুন্নত করার জন্য। সে কারণে আমাদের অন্যদের গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই। এটা আমাদের হাড়ে হাড়ে। আমাদের রক্তেই গণতন্ত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা একমাত্র দেশ যারা কভিডকালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০০ মিলিয়নের বেশি টিকা দিয়েছে। আমরা টিকা অন্য জায়গা থেকে কিনেছি। আর তারা বাড়িতে টিকা পৌঁছে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা আসার পর যে দেশ সবচেয়ে বেশি পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটি আমেরিকা। অন্য দেশও অবশ্য সহায়তা করেছে। তবে আমি সেই দেশে (আমেরিকা) যাচ্ছি। এসব কাজের অবশ্যই প্রশংসা করব।’

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক অংশীদার মনে করে বেলারুশ : বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদার মনে করে বেলারুশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই আলেইনিক এ কথা জানান। 

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দুই দেশ রাজনৈতিক পরামর্শ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য যৌথ বেলারুশ- বাংলাদেশ কমিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।’ 

উভয় দেশ তাদের ফরেন অফিসের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুদেশের জনগণের কল্যাণে গঠনমূলক সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বের প্রসার অব্যাহত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সের্গেই আলেইনিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত