বিশ্বকাপের আগে সফল মৌসুমের তৃপ্তি

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ০২:২০ এএম

রেলগাড়ির মতো একটানা ছুটছিলেন ক্রিকেটাররা। মাঝে মাঝে কিছু স্টেশনে সাময়িক বিরতির পর ফের ছুটে চলা। এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর একমাত্র টেস্ট। পর্দা নামল লম্বা মৌসুমের, জুনে আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘরের মাঠে সিরিজের আগে আর কোনো ব্যস্ততা নেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের। ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারানো, ইংল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সব সংস্করণেই জয় তৃপ্তি দিচ্ছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই দলের সদস্যদের মধ্যে মানসিকতার একটা পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন সাকিব। কাল খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘মানসিক উন্নতিই সবচেয়ে বড় উন্নতি। বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচের সময়ই আলোচনা করেছি, হয়তো এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত আমরা নিজেদের অনেক ছোট দল মনে করতাম, কিন্তু আমরা আসলে ছোট দল ছিলাম না। এই বিশ্বাস নিয়ে গেলে হয়তো সেমিফাইনাল খেলতাম। হয়তো ওই জায়গাতেই ঘাটতি ছিল। এরপর থেকে চিন্তা ছিল আমরা মানসিকতায় পরিবর্তন আনব; বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি দলের সবাইকে দেখবেন মানসিক পরিবর্তন আছে সবার মধ্যে।’ চলতি বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ, তার আগে সফল একটা মৌসুম কাটানোর পরিতৃপ্তি সাকিবের কণ্ঠে, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম ২০২৩ সাল আমাদের খুব ভালো যাবে। যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ বছর, এশিয়া কাপ আছে, বিশ্বকাপ আছে... পরবর্তী ছয় মাস যেন ভালো খেলতে পারি। প্রথম চার মাস বা প্রথম অর্ধ অনেক ভালো খেলেছি। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে এটা ধরে রাখার। যেহেতু বেশির ভাগ ওয়ানডে খেলব, যে ফরম্যাটে আমরা অনেক ভালো।’

আইরিশদের বিপক্ষে একাদশে ৬ বোলার নিয়েছেন সাকিব, নিজে অবশ্য বল করেছেন কমই। টেস্ট অধিনায়ক জানালেন, বাকিদের পরখ করে দেখতেই নিজে কম বোলিং করেছেন, ‘না, ওরকম কোনো ব্যাখ্যা নেই। বোলিং কাউকে করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার কাছে ৫-৬টা অস্ত্র থাকলে সব অস্ত্র ব্যবহার করার দরকার নেই সব সময়। এটার মানে কি, আমি ছাড়া বাংলাদেশ দলের বোলিং চলে না? আমাদের যথেষ্ট বোলার আছে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো, ওদের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। এটা ওরা করে দেখিয়েছে।’

আগামীতেও এই ছকেই একাদশ সাজানোর পরিকল্পনা সাকিবের, ‘২০ উইকেট নিতে হলে বোলিং অপশন বেশি লাগবে, এটার বিকল্প নেই। ডিফেন্সিভ মাইন্ডসেট থাকলে, ড্র করার চিন্তা থাকলে আপনি কম বোলিং অপশন নিয়ে নামতে পারবেন। যখন জিততে চাইবেন, ৫-৬ বোলারের অপশন নিয়ে খেলবেন। বড় দলগুলো ওই অবস্থায় আছে। ভারত, ইংল্যান্ড যদি দেখেন... ৫-৬ বোলার আর ৬ ব্যাটার নিয়ে খেলে।’ মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যাটিং-বোলিং দুটোই ভালো করায় সুযোগটা পাচ্ছে বাংলাদেশ, বললেন সাকিব, ‘মিরাজও এমন ব্যাটার যে ৭-এ ব্যাট করতে পারে। তাহলে বোলিং অপশন বেড়ে যাচ্ছে। এটা দলের জন্য ভালো। সবাই বিশ্রাম পাবে, চাপ পড়বে না কারও ওপর। এখন তাইজুল অনেক বোলিং করছে। আলহামদুলিল্লাহ ভালো করছে, তবে অপশন বাড়ানোর সুযোগ হচ্ছে।’ প্রথম ইনিংসে তামিমের সঙ্গে শান্ত আর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটনকে পাঠানোটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি না, জানতে চাইলে সাকিবের উত্তর, ‘জাকির ফিট থাকলে ও ওপেন করত। ও ফিট না থাকায় অন্য কাউকে ওপেন করাতে হয়েছে। শান্ত সাধারণত তিনে ব্যাট করে, করার কথা। জাকির ফার্স্ট অপশন ছিল। জয়-সাদমানের অপশনও ছিল। একজন বোলার বেশি নেওয়ার চিন্তা করায় একজন ব্যাটার কম নিয়েছি।’

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ব্যাটিংটাও আগ্রাসী মেজাজেই করেছে বাংলাদেশ। সাকিব বলছেন, পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তন এলেও বেশির ভাগ সময় এভাবেই খেলবে বাংলাদেশ, ‘হয়তো বেশির ভাগ ম্যাচেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করব আমরা। সব সময় হয়তো হবে না। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভর করে। তবে আস্তে আস্তে হয়তো অনেক পজিটিভ খেলার চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত