মাথা উঁচু করে বাঁচার দীক্ষা দিয়েছেন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩৪ পিএম

শিক্ষক মানে আলোর দিশারি, জীবনের উত্তম পথপ্রদর্শক। প্রাইমারি স্কুল থেকে এই কলেজজীবন পর্যন্ত অনেক শিক্ষকের দেখা পেয়েছি। সবাই সেরা। তবে সবচেয়ে বেশি যে শিক্ষক আমার হৃদয়ে স্থান দখল করে রয়েছেন তিনি হলেন তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ আক্তার। ২০১৭ সালে অনার্সের প্রথম ক্লাসেই ওনার লেকচার শুনে মুগ্ধ হই। একটা মানুষ কতটা সাবলীল ভাষায় কথা বলতে পারে তা ওনার কাছেই দেখেছি এবং শিখেছি। লেখালেখির প্রতি ঝোঁক, সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করতে আসা। অনার্স পড়তে এসে ওনার সান্নিধ্য আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি। প্রথম বর্ষে রবীন্দ্রনাথের চোখের বালির লেকচারে তিনি উন্নত করেছেন আমার মনোজগৎ। দ্বিতীয় বর্ষে মেঘনাদবধ কাব্য, তৃতীয় বর্ষে বৈষ্ণব পদাবলি, চতুর্থ বর্ষে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ও আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প পাঠদানের মাধ্যমে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন আমার জীবনদর্শন ও বোধশক্তি। তার পড়ানোর ভঙ্গিমাও অন্যরকম। গল্পের ছলে নানা কথার মাধ্যমে পড়ান। যেন আমরা প্রতিটি বিষয় হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারি। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনে টিকে থাকার জন্য সততার কোনো বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি সততাকে পুঁজি করে জীবনযাপন করে, তার মাঝে কোনো ভয় থাকে না। তিনি সততার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার দীক্ষা দিয়েছেন। প্রতি বছর ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার পর তার চোখে-মুখে যে আনন্দের ছাপ দেখেছি তা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। শিক্ষকের হাসিমুখের কারণ হতে পারা একজন ছাত্রের কাছে অশেষ পাওয়া। অল্প কিছুতেই বিচলিত হয়ে যাওয়া আমার বাজে স্বভাব। জীবনের প্রতিকূলতা, বিপদ এবং খারাপ সময়ে কীভাবে স্থির থেকে বিবেচনার সঙ্গে কাজ করে যেতে হয় তা আমি শাহনাজ ম্যাডামের কাছ থেকেই শিখেছি। কীভাবে ভালোভাবে পড়াশোনা করব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, বই কিনতে পারছি না শুনে নিজের অনার্স জীবনের কিছু বই হাতে তুলে দিয়েছেন, প্রকাশনী থেকে পাওয়া সৌজন্য কপি দিয়েছেন। যতই দিন যাচ্ছে তার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর কিছুদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা। অনার্স জীবনের সমাপ্তি ঘটবে। চালতা ফুলের হাসি মাখানো মুখটা হয়তো নিয়মিত দেখা হবে না, হবে না ক্লাসে বিমুগ্ধ হয়ে লেকচার শোনা। কিন্তু বাকিটা জীবন শাহনাজ ম্যাডাম আমার আদর্শ হয়ে থাকবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত