নৌকাপ্রত্যাশী অর্ধডজন

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:২৯ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীকের জন্য আওয়ামী লীগের অর্ধডজন প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ করলেও মাঠে নেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সব প্রার্থীই দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সবাই দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক পরিচ্ছন্ন আধুনিক একটি নগর উপহার দিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনেরই অংশ না নেওয়ার অংশ হিসেবে বিএনপি গাজীপুর সিটিতে অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শওকত হোসেন সরকার। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করতে সরকারকে বাধ্য করা। সে লক্ষ্যে দাবি আদায়ের জন্য বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে। তবে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত এলে বিএনপি প্রার্থী ও প্রস্তুতি সবই রয়েছে।

এদিকে সিটি নির্বাচনে নগরবাসীর নজর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দিকে। বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়নের জন্য অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং এবং দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, একবার বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের কাছে পরাজিত ও আরেকবার মনোনয়ন বঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, সিটির দুই মেয়াদে প্রায় ৪২ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, এলাকায় ক্লিন ইমেজ হিসেবে পরিচিত গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের সদস্য কামরুল আহসান সরকার রাসেল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা দক্ষ সংগঠক আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, আরএসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. মেজবাহ্ উদ্দিন সরকার রুবেল ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে টঙ্গীর প্রভাবশালী সরকার পরিবার থেকে সরকার শাহ নূর ইসলাম রনি এবার প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনিও আরও আগে থেকেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ওঠান বৈঠক করে আসছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসংযোগ করছেন এবং ভোটার ও নগরবাসীর কাছে তাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। এ ছাড়া নগরীর ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার, বিলবোর্ড আর ফেস্টুন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছেয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মাঠে না থাকায় নির্বাচনের আমেজ খুব একটা জমে ওঠেনি।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, ভোটের মাঠে বিএনপি না থাকায় খালি খালি লাগছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও বিএনপি মাঠে না থাকায় ভোটাররা নির্বাচনে খুব একটি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচন জমিয়ে তুলতে পারেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার এ এইচ এম কামরুল হাসান। তিনি জানান, এবার গাজীপুর সিটিতে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৩ জন, মহিলা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮১২ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র হিসেবে ৪২৫টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল মতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেখ তারিখ ২৭ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ ভোট হয়েছে ২০১৮ সালের ২৭ জুন। নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। সে হিসেবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয় গত ১১ মার্চ থেকে। এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসির ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত