বিএনপির আন্দোলনে প্রয়োজনে হরতাল!

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:২২ এএম

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গত ৪ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। আসন্ন রমজানের ঈদের পর আন্দোলনের গতি বাড়বে। শান্তিপূর্ণ জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করতে চায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তবে প্রয়োজনে হরতাল, অবরোধ, অসহযোগ, সচিবালয়, বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে দলটির পক্ষ থেকে।

ঈদের পরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আসতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সমন্বয়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নির্ধারণ করছে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে ১০ দফা দাবি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তবে সরকার যদি হার্ড লাইনে যায় সেক্ষেত্রে আমরাও হার্ড লাইনে যেতে বাধ্য হব। কখন কী আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে তা সময়ই বলে দেবে। জনগণই আন্দোলন কর্মসূচি নির্ধারণ করবে।’ তিনি বলেন, ‘হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা চাই না। প্রাথমিকভাবে সচিবালয় ঘেরাও, বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি আসতে পারে। তারপর পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা।’

বিএনপি গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিটি কর্মসূচি নির্ধারণের আগে বিরোধী দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বসে আমরা আলোচনা করি। কর্মসূচি নির্ধারণ করি। ইতিমধ্যে হরতাল, অবরোধ, ঢাকা ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাও এমনকি বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি ঘোষণার জন্য প্রস্তাব আছে লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে। তবে রাজপথ ও সরকারের আচরণই বলে দেবে কখন কী কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।’

গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১০ দফা দাবি জানিয়ে ২৪ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একইদিন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থাকায় ঢাকার কর্মসূচি স্থগিত করে ঐদিন সারা দেশে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করে দলটি। পরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করে। এরপর দফায় দফায় যুগপৎভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে রাজনৈতিক দলগুলো। সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব থানা ও উপজেলায় বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঈদের পর আবার শুরু হবে রাজপথের আন্দোলন। ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথা বলছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি রমজানে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করছে। নিজেরা হামলা করে আবার মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে। হামলায় সারা দেশে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জনগণের আন্দোলনে পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকা সরকার মরিয়া হয়ে উঠছে। নানাভাবে বিএনপিকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে ঈদের পরে সরকার হার্ড লাইনে যাবে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার পাশাপাশি আদালতকে ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের সাজা দেবে। এ অবস্থায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’

ইতিপূর্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফার আন্দোলনে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি আসবে কি না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘এখন পর্যন্ত হরতাল, অবরোধের মতোন কর্মসূচির ভাবনা নেই। কর্মসূচি ভবিষ্যতে জনগণই নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে আসবে কি না এটা বলতে পারব না। প্রয়োজন বলে দেবে ভবিষ্যতে কী হবে? জনগণই বলে দেবে। জনগণ যদি বলে যে, এখন হরতাল চাকা বন্ধ, তখন হরতাল, চাকা বন্ধ হবে।’

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস ভারত জুড়ে কর্মসূচি পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখেন। ওখানে হরতাল হয়? হয় না। আন্দোলন হয়। রাস্তায় লোক নামে, লাখ লাখ লোক হেঁটে যায়, ভারতজুড়ে প্রোগ্রাম করল কংগ্রেস। হাঁটল ১৪৯ দিন ধরে, হাঁটছে... এগুলো তো আন্দোলন। আমরা যে কর্মসূচি করছি-এগুলো কি আন্দোলন না? এই আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন জনমত এমন জায়গায় আসবে যে, তখন ওই হরতাল দিতে হবে না। ওরা এমনিতেই চলে যাবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত সোমবার রাজধানীতে এক ইফতার মাহফিলে বলেছেন, ‘আন্দোলন কর্মসূচিতে আমরা মিছিল নিয়ে বের হব। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমি শাহজাহানপুর থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়েছিলাম। এরশাদের পতন হয়েছিল। আগামীতে শাহজাহানপুর থেকে মিছিল নিয়ে বের হব। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা এভাবে মিছিল নিয়ে বের হবে। পুরো রাজধানী মিছিলের নগরীতে পরিণত হবে। সরকারকে বিদায় করেই ঘরে ফিরব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত