৫১ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেবে তীব্র তাপপ্রবাহ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:২৫ এএম

চৈত্রের শেষ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহ আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি কোনো কোনো এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলমান তাপপ্রবাহ পরবর্তী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র আকারে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সব জায়গায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠতে পারে।

এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে (১৫ থেকে ২১ এপ্রিল) বাংলাদেশের ১০টি জেলায় ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এপ্রিলের ১৫ তারিখ থেকে ২১ পর্যন্ত মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা নির্দেশ করেছে সব আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল। ১৯৭২ সালের ১৮ মে দেশে সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে তা সর্বোচ্চ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা যখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তাকে বলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। আর তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তাহলে তাকে বলে তীব্র তাপপ্রবাহ।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার বলেছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম এবং নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া রাজশাহী, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আকাশের কোথাও মেঘ নেই। তাই তাপমাত্রা কমারও কোনো সম্ভাবনা নেই। সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আর এতে দেশের কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও অতিক্রম করতে পারে।’

এত দীর্ঘদিন ধরে তো তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকে না। এমন প্রশ্নের জবাবে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বছরের এ সময়ে সাগর থেকে হালকা পরিমাণে মেঘ এসে থাকে। কিন্তু এবার সেই মেঘও আসছে না, সাগরের ওপরেও কোনো মেঘ নেই। যথারীতি তাপমাত্রা বাড়ছে। এ কারণে এবার তাপপ্রবাহের সময়টা দীর্ঘ হচ্ছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে, তারপর হয়তো তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, এপ্রিল ও মে মাস দেশের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। অতীতের রেকর্ডে দেখা যায়, ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। অপরদিকে সারা দেশে ১৯৭২ সালের ১৮ মে সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে তা সর্বোচ্চ। অপরদিকে গত দুই দশকের মধ্যে ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল যশোরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এ বছর তাপমাত্রার পারদ বেশি উঠতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ বিশ^জিৎ চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। এ বছরও তা অব্যাহত থাকতে পারে। আর যদি থাকে তাহলে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশেও পড়ছে।’

প্রতিবেদনটি তৈরিতে আরও তথ্য দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড় ও ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত