রাজধানীর বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স আগুনে পুড়ে ভস্ম হওয়ার আট দিন পর গতকাল বুধবার দুপুরে সেখানে চৌকি বসানোর সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদের মধ্যেই সেখানে বসেন তারা। চৌকিতে কারও কারও মালামাল থাকলেও অধিকাংশের চৌকিই খালি দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালামাল সব পুড়ে গেছে। তাদের কাছে কোনো নগদ টাকা নেই যা দিয়ে নতুন করে মালামাল তুলবেন দোকানে। সরকারের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন ওইসব নিঃস্ব ব্যবসায়ী। এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পোড়া ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শুরু হয়। বর্জ্য অপসারণের পর সেখানে ইট ও বালু দিয়ে চৌকি বসানোর উপযোগী করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের ১ দশমিক ৭৯ একর জায়গার পোড়া বর্জ্যরে সম্পূর্ণ খালি করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।
গতকাল বেলা সোয়া ১টার দিকে চৌকি বসিয়ে অস্থায়ীভাবে বেচাবিক্রির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এর পরই দোকানিরা যার যার মতন চৌকি কিনে নিয়ে এসে জায়গা দখল করেন। একই সময়ে দেখা গেছে আদর্শ কমপ্লেক্স ইউনিটের একটি পাঁচতলা ভবন ভাঙার কাজ এখনো চলমান আছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের মার্কেট ধরতেই তারা তড়িঘড়ি করে চৌকি বসিয়ে সেখানে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন।
খোলা আকাশের নিচে রোদ উপেক্ষা করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তাদের এই দোকান বসানো।
চৌকি নিয়ে বসা বিসমিল্লাহ গার্মেন্টসের মালিক মো. খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল অস্থায়ীভাবে বসার। আজ সেই দাবি পূরণ হয়েছে। আমরা ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছি। ঈদ সামনে রেখে আমরা কিছুটা ব্যবসার আশা দেখছি। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে।
খালি চৌকিতে বসে থাকতে দেখা যায় ইফতে ফ্যাশনের মালিক মো রাফিকে। তিনি জানান, বঙ্গ কমপ্লেক্সে দুটি দোকান ছিল তার। এখন একটি চৌকি বসানোর সুযোগ পেয়েছেন। ৫০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যাদের অল্প ক্ষতি হয়েছে তারা বিভিন্ন লোকের সহায়তার টাকা পেয়েছে। কিন্তু আমি কোনো সহায়তা পাইনি। এখন মালামাল কীভাবে তুলব।’
ডিএসসিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩ হাজার ৮৪৫ জন। তবে গতকাল প্রায় ৭০০ ব্যবসায়ী চৌকি বসিয়ে বঙ্গবাজারে বসেছেন। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী সবাই অস্থায়ীভাবে চৌকি বসিয়ে এখানে ব্যবসা করতে পারবেন।
গত ৪ এপ্রিল সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারা। পরে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তার আগেই আগুন কেড়ে নেয় সব। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আশপাশের মার্কেটগুলোতেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এই আগুনে আশপাশের ৬টি মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের ২ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা : বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে নিজস্ব তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চৌকি বিছিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মেয়র তাপস বলেন, ‘এই পুনর্বাসনে সহযোগিতা ছাড়াও আমরা আর্থিকভাবে মানবিক সহায়তা দেব। আমরা করপোরেশন সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে গঠিত তহবিলে করপোরেশন নিজস্ব অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেব।’
তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আজ থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন। আমার (গত) রবিবারে ব্যবসায়ী, দোকান মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সব নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ঈদের আগে আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে করে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তাদের পুনর্বাসন যেন করা যায়। সেই লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গরূপে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মার্কেটগুলোর দোকান মালিক সমিতি, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআইসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ঈদের পর বৈঠক করা হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
