কিউবার দক্ষিণের কেম্যান দ্বীপপুঞ্জকে করের স্বর্গ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই দ্বীপপুঞ্জে জনসংখ্যার চেয়ে বেশি ধনকুবেরদের কোম্পানি। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কী এমন আছে যা বিশ্বের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করছে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
পরিচিতি
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ। ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত স্বশাসিত এক অঞ্চল। ২৬৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ গ্র্যান্ড কেম্যান, কেম্যান ব্র্যাক ও লিটল কেম্যান এই তিন দ্বীপ নিয়ে গঠিত। গ্র্যান্ড কেম্যানে অবস্থিত কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী জর্জ টাউন। কিউবার দক্ষিণাঞ্চল থেকে ৯০ মাইল দূরের এই দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা ৬৯ হাজার। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে আদিবাসীরা কখনো বাস করতেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, ১৫০৩ সালের ১০ মে আমেরিকায় শেষ সমুদ্রযাত্রার সময় ইতালীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি এটির নাম দিয়েছিলেন লাস তরতুগাজ বা কচ্ছপ। তার এই নামকরণের কারণ কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে তিনি ও তার দল প্রচুর কচ্ছপ দেখেছিলেন। অতিমাত্রায় শিকারের কারণে সেসব কচ্ছপ একসময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। কচ্ছপের পর দ্বীপপুঞ্জটি কেম্যান নামে এক ধরনের সরীসৃপ প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সেখান থেকে ওই অঞ্চলের নাম রাখা হয় কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ। ক্রিস্টোফার কলম্বাস দ্বীপপুঞ্জটি আবিষ্কারের পরপরই সেখানে উপনিবেশ স্থাপিত হয়, তা নয়। তবে জলদস্যু, বিধ্বস্ত জাহাজের নাবিক থেকে শুরু করে আরও অনেকে বিভিন্ন সময়ে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে বসতি গড়ে। ১৫৮৬ সালে আলোচিত ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক ওই দ্বীপপুঞ্জে অল্প সময়ের জন্য ছিলেন। যতদূর জানা যায়, আইজাক বোডেন ছিলেন কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নথিভুক্ত স্থায়ী বাসিন্দা। ১৬৬১ সালে তিনি গ্র্যান্ড কেম্যানে জন্মগ্রহণ করেন। ১৬৭০ সালে মাদ্রিদ চুক্তির পর জ্যামাইকার পাশাপাশি কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। ১৯৬২ সালে জ্যামাইকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বের হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হলেও কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশদের ছায়াতলেই থাকতে চেয়েছিল। দ্বীপপুঞ্জটি এখন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিজেরাই দেখাশোনা করে। প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক আগের মতো ব্রিটিশরাই দেখছে। যুক্তরাজ্য থেকে সাড়ে চার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা ব্রিটিশদের থেকেও বেশি ব্রিটিশ। কিউবা বা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহর থেকে এক ঘণ্টা বিমানে চড়ে ওই দ্বীপপুঞ্জে নামার পর যে কারও মনে হতে পারে, তিনি বুঝি পঞ্চাশের দশকের ব্রিটেনে পদার্পণ করেছেন। মাথায় বিশাল টুপি পরে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের গভর্নর প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রতি বছর সেখানে বেশ ঘটা করে পালন করা হয় ব্রিটেনের রানীর জন্মদিন। সেনাদের কুচকাওয়াজ দেখতে ভিড় করে প্রচুর মানুষ। সে সময় যদি কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইটও হয়, তারপরও রানীর জন্মদিন উদযাপন থেমে থাকবে না।
কর ফাঁকি
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। হবেই না বা কেন? প্রথমত সেখানকার আবহাওয়া সারা বছরই নাতিশীতোষ্ণ থাকে, দ্বিতীয়ত কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের তিনটি দ্বীপেরই প্রকৃতি ভয়ংকর সুন্দর। তার ওপর দ্বীপপুঞ্জে দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকায় সেখানে যাতায়াতে কোনো ধরনের ঝক্কি পোহাতে হয় না। এক দ্বীপের সঙ্গে আরেক দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভালো। এছাড়া রয়েছে বিশ্বমানের শপিং কমপ্লেক্স, রেস্তোরাঁ, বেসরকারি হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজ। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবদানকারী তাদের পর্যটন শিল্প। তবে পর্যটন খাত দ্বীপপুঞ্জটিকে বিশ্বের কাছে বিশেষ করে তোলেনি। আজ সবাই বিশেষ করে বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এক নামে যে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জকে চেনে, তা অন্য কারণে। ক্যারিবীয় সাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ গত কয়েক দশকে এমন এক পরিণত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যাতে আকৃষ্ট হয় বিশ্বের বহু ধনকুব ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তারা নিশ্চিন্তে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে তাদের কোম্পানি নিবন্ধন করেন। বিশ্বে এত দেশ থাকতে তারা কেন কেম্যান দ্বীপপুঞ্জকে তাদের কোম্পানি নিবন্ধনের নিরাপদ ক্ষেত্র মনে করে? এই প্রশ্নের জবাব পেতে হলে ওই দ্বীপপুঞ্জের আইকর আইনের দিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আয়কর আমাদের সবাইকে দিতে হয়। বিষয়টি এমন না যে আয়কর আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে দিতে চাই। আমরা আয়কর দিতে বাধ্য। আমাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই চেষ্টা থাকে সেরা ট্যাক্স সফটওয়্যার খুঁজে বের করে আয়কর কমানো। অন্যদিকে কোটিপতিরা খোঁজেন করের স্বর্গ। এই করের স্বর্গ কী? করের স্বর্গ বলতে সেই দেশকে বোঝানো হয় যেখানে আয়কর কম দিতে হয়। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অনেক সময় কোনো আয়করই দেওয়া লাগে না। পাশাপাশি ওই দেশ বিদেশি আয়কর কর্র্তৃপক্ষকে খুবই সীমিত এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক তথ্য দেয় না। এছাড়া ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের করের স্বর্গে বাড়ি বা ব্যবসায়িক উপস্থিতি থাকতেই হবে, এমনটার প্রয়োজন পড়ে না। আয়কর ব্যবস্থা এমন শিথিল হওয়ার কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশ ও অঞ্চল অতি ধনীদের কাছে গত কয়েক বছরে বেশ লোভনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পানামা, লুক্সেমবার্গ, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা, সিশেলস, সাইপ্রাস, মরিশাস, মাল্টা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জÑ এসব দেশ ও অঞ্চল ট্যাক্স হেভেন বা করের স্বর্গ হিসেবে আজ বেশ বিখ্যাত। হ্যাঁ, এই তালিকায় কেম্যান দ্বীপপুঞ্জেরও নাম আছে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে শীর্ষ তিন করের স্বর্গের একটি ছিল কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে এক বছরে ধনী ব্যক্তি ও বিভিন্ন দেশের বহুজাতিক কোম্পানি নিজ নিজ দেশে কর ফাঁকি দিয়ে ৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার নিয়ে যায়। এই অর্থ বিশ্বব্যাপী মোট কর ফাঁকির প্রায় ছয় ভাগের ১ ভাগ বা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কোম্পানি নিবন্ধন খুবই সহজ এবং তা অনলাইনেও সম্ভব। মাত্র ১ থেকে ৪ দিন লাগে নিবন্ধন করতে। মাত্র একজন ব্যক্তি কিংবা শেয়ারহোল্ডার অথবা কোনো কোম্পানি বা ট্রাস্ট কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কোম্পানি নিবন্ধন করতে পারে। এজন্য প্রথম বছরে ৫ হাজার ৫০০ ডলার খরচ হয়। এরপর প্রতি বছর খরচ হয় ১ হাজার ৮৭০ ডলার। ন্যূনতম মূলধনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল কিংবা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করার প্রয়োজন হয় না। তবে দ্বীপপুঞ্জটিতে কোম্পানির একটি অফিস এবং ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের আইন বিনিয়োগকারীদের গোপনীয়তার সুরক্ষা প্রদান করে। বিনিয়োগকারীরা তাদের পরিচালক, কর্মকর্তা এবং শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নন। তাদের আর্থিক রেকর্ড জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্বীপপুঞ্জটির আইন বিনিয়োগকারীদের সর্বাধিক গোপনীয়তার জন্য অনুমতি দেয়, যা ব্যক্তিগত সম্পদ এবং আর্থিক নিরাপত্তার সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
নো ট্যাক্স
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কোনো করপোরেট ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স নেই। প্রোপার্টি ট্যাক্স নেই। নেই কোনো মূলধনী ট্যাক্স, পেরোল ট্যাক্স ও ধার্য কর। করপোরেট ট্যাক্সও সেখানে দিতে হয় না। ট্যাক্সের এসব সুবিধা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জকে কেবল ধনী ব্যক্তিদের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার নিরাপদ আশ্রয়স্থলেই পরিণত করেনি, একই সঙ্গে বহুজাতিক করপোরেশনগুলোকে তাদের শেল কোম্পানি ওই দ্বীপপুঞ্জে স্থাপনের কেন্দ্রস্থলেও পরিণত করে। সম্পূরক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এসব শেল কোম্পানির মাধ্যমে বহুজাতিক করপোরেশন করপোরেট আয়কে আয়করের হাত থেকে রক্ষা করে এবং মুনাফা নিরুপদ্রব রাখে। আয়করের পরিবর্তে বহুজাতিক করপোরেশনগুলো কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ সরকারকে কেবল লাইসেন্সিং ফি দেয়। এভাবে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের মতো করের স্বর্গখ্যাত দেশ ও অঞ্চলগুলোয় বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ নিরন্তর চলতে থাকে যা তাদের স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বিষয়টি আরও সরলভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। ধরুন, একটি জাপানি কোম্পানি ও একটি মার্কিন কোম্পানি একসঙ্গে ব্যবসা করে মুনাফা কামাতে চায়। তারা যদি তাদের ব্যবসা জাপান বা যুক্তরাষ্ট্রে শুরু করে, তাহলে তাদের আয়কর দিতে হবে। কিন্তু ওই দুই কোম্পানি যদি জাপান বা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা না করে একটি হোল্ডিং কোম্পানির মাধ্যমে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে ব্যবসা করে, তাহলে তাদের এক টাকাও আয়কর দেওয়া লাগবে না। পুঁজিবাদ এভাবেই কাজ করে। নিজের দেশে ব্যবসা করলে আয়কর দিতে দিতে মুনাফায় টান পড়বে তাই অফশোরে বা বিদেশের মাটিতে ব্যবসা করে কোটিপতিরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও সম্পদশালী হয়ে যান। এ কারণে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জসহ অন্যান্য করের স্বর্গে কোম্পানি নিবন্ধন করার লোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বহুজাতিক করপোরেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের ধনকুবেরদের।
কেবল বড় করপোরেশন নয়, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কেউই আয়কর দেয় না। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে দ্বীপপুঞ্জটি তার ব্যয় মেটায় কীভাবে? উত্তর হলো, আয়কর ছাড়া সেখানে আর সব কিছুর ওপর কর বসানো আছে। সেখানকার সুপার মার্কেটে গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। ২০১৬ সালে অর্থাৎ প্রায় সাত বছর আগে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে এক প্যাকেট ফিশ ফিঙ্গারের মূল্য ছিল সাড়ে আট পাউন্ড, যা বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ১২০ টাকা। ২০২২ সাল থেকে যেখানে বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, সেখানে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে এখন নিশ্চয়ই সাড়ে আট পাউন্ডে ফিশ ফিঙ্গার বিক্রি হচ্ছে না। আমাদের দেশের সুপার মার্কেটগুলোতে এখন এক প্যাকেট (২০০ গ্রাম) ফিশ ফিঙ্গার ১৬৫ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে সাত বছর আগে ১,১২০ টাকা দিয়ে এক প্যাকেট ফিশ ফিঙ্গার কিনতে হলে কোটিপতি বা মোটা বেতনের চাকরি করা ছাড়া উপায় ছিল না। প্রতিটি পণ্যের ওপর এভাবে পরোক্ষ কর ধার্য করে গোটা অঞ্চলের ব্যয় মেটাচ্ছে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ সরকার।
সারভাইভেল অব দ্য রিচেস্ট
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম সম্প্রতি তাদের সারভাইভেল অব দ্য রিচেস্ট প্রতিবেদনে বলে, ‘গত ১০ বছরে বিশ্বে যত নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে, তার ৫৪ শতাংশই কুক্ষিগত করেছে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের এক শতাংশ এবং ২০২০ সাল থেকে নতুন সৃষ্ট সব সম্পদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তাদের দখলে। এর জন্য করের স্বর্গখ্যাত দেশ ও অঞ্চলগুলো ধন্যবাদের দাবিদার। কারণ তারাই সবচেয়ে ধনীদের কর ফাঁকির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’ একই প্রতিবেদনে অক্সফাম এও জানায়, ২০২২ সালে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা আড়াই গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি উইন্ডফল প্রফিট (আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত আয়বৃদ্ধি) হয় তাদের। আমেরিকান বহুজাতিক তেল ও গ্যাস করপোরেশন এক্সনমোবিলকে অক্সফাম থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীরা বারবার ট্যাক্স ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রতিবেদনের দাবি জানালেও করপোরেশনটি তা করেনি। এক্সনমোবিল কোথায় রেকর্ড মুনাফা করেছে এবং কোথায় আয়কর দিয়েছে, আদৌ দিয়েছে কি না, সেসব তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ওবামার ভুল তথ্য
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী জর্জ টাউনে বড় কাচের দেয়ালের অত্যাধুনিক ভবনে বসে শত শত হিসাবরক্ষক ও আইনজীবী অতিমাত্রায় মুনাফালোভী করপোরেট পুঁজির স্বার্থে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ভবনগুলোর নিচে পার্ক করা থাকে তাদের দামি ফেরারি গাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একবার করের স্বর্গখ্যাত দেশ ও অঞ্চলের ব্যাপক সমালোচনা করেন। তিনি কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের এমনই এক অত্যাধুনিক ভবন (যার নাম আগল্যান্ড হাউজ) সম্পর্কে বলেছিলেন, ভবনটিতে ১২ হাজার কোম্পানি আছে। সেক্ষেত্রে আগল্যান্ড হাউজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন যেটি কর ফাঁকির আখড়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার তথ্য সঠিক ছিল না। আগল্যান্ড হাউজে ১২ হাজার নয়, প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত কোম্পানি আছে। আর গোটা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার। এটি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের হিসাব। অর্থাৎ কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা তাদের জনসংখ্যার দ্বিগুণের কাছাকাছি। মজার বিষয় হলো, দ্বীপপুঞ্জটিতে গেলে এত কোম্পানির নড়াচড়া কিন্তু চোখে পড়বে না। তাহলে তারা কি সেখানে নেই? তারা আছে, বহাল তবিয়তেই আছে এবং তা কাগজে, দলিল-দস্তাবেজে।
