ভোটারদের আগ্রহ কম, জমেনি প্রচার

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০১:৩৬ এএম

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র দেড় সপ্তাহ। আগামী ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আট মাসের জন্য ওই আসনের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো বড় দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকায় সেখানে জমে ওঠেনি নির্বাচনী প্রচার। পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, মোহরা, পূর্ব ষোলশহর, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড ও জেলার বোয়ালখালি পৌরসভা এবং উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসন। এমপি মোসলেম উদ্দিন আহমদের মৃত্যুর পর আসনটিতে উপনির্বাচন হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কিংবা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই নির্বাচনে।

রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৭ এপ্রিলের নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ রয়েছে তা সন্তোষজনক। প্রার্থীরা এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ কমিশনে যায়নি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোমান আল মাহমুদের নৌকার পক্ষে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তার কর্মী-সমর্থকদের বিশাল অংশও রয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। তবে, সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীর এ প্রচারণা চলছে অনেকটা একতরফাভাবেই। সে তুলনায় অন্য প্রার্থীদের প্রচারণা খুব একটা দৃশ্যমাণ নয়।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছাড়া উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ এস এম ফরিদ উদ্দিন (চেয়ার), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী স উ ম আবদুস সামাদ (মোমবাতি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তফা কামাল পাশা (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর রমজান আলী (একতারা)। এদের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় চেয়ার ও মোমবাতি প্রতীকের পোস্টার লক্ষ্য করা গেলেও অপর দুই প্রার্থীর কোনো তৎপরতা লক্ষ্যণীয় নয়।

বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখিল গ্রামের বাসিন্দা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আবদুল হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ থাকলেও ভোট নিয়ে এলাকার মানুষের খুব একটা আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর সঙ্গে দেখা হয়নি। নৌকার পক্ষে আওয়ামী লীগের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ চালালেও অন্য প্রার্থীদের প্রচারণা পোস্টারেই সীমাবদ্ধ।

সারোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের কালুরঘাট সেতু দরকার। আমরা আগে অনেক বড় বড় নেতাকে এমপি বানিয়েছি, সেতু করে দিতে পারেনি। এবার যারা ভোটে দাঁড়িয়েছে তারা আর কী করবে? সেজন্য ভোট নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকার কাজ করার জন্য আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমার সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এলাকায় এলাকায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আমরা যাচ্ছি। আশা করি এলাকার জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচনে না এসে দূর থেকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। ২৭ এপ্রিল জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ এস এম ফরিদ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবল আকাক্সক্ষা দেখছি। কিন্তু তাদের প্রশ্ন একটাই, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে তো!

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী স উ ম আবদুস সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আর মাত্র আট মাস পর জাতীয় নির্বাচন। তাই চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। এ নির্বাচন থেকে বোঝা যাবে সামনের জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে এখানে আস্থার পরীক্ষা দিতে হবে।

সংসদ সদস্য মাঈন উদ্দিন খান বদলের মৃত্যুর কারণে আসনটি শূন্য হলে মোসলেম উদ্দিন আহমদের মৃত্যুর কারণে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে এমপি হন মোসলেম উদ্দিন আহমদ। ওই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৩ শতাংশ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এমপি মোসলেম উদ্দিন আহমদ মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৩ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৫৪ হাজার ১০৯ জন নারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত