সারা দেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে একের পর এক অগ্নিকান্ড। বিশেষ করে, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে নিয়মিত অগ্নিকান্ডে সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ। আবার কেউ বলছেন, নাশকতা। কেউ বলছেন, মার্কেটের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব। নাশকতার সন্দেহ গাঢ় হওয়ার কারণও রয়েছে। বঙ্গবাজার এবং নিউমার্কেট অগ্নিকান্ডের সূচনাক্ষণ ভোরবেলা। এটি কেবলই দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা? বিষয় যা-ই হোক, অপ্রত্যাশিত এবং অস্বাভাবিক এই অগ্নিকান্ডের ফলে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ দোকান মালিক।
বছরের এ সময়ই বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটে। কারণ রোজার ঈদেই জমে ওঠে বিক্রি। বিভিন্ন মার্কেটে নামে ক্রেতাদের ঢল। বিশেষ করে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কেনাকাটার কেন্দ্রবিন্দু নিউ সুপার মার্কেট এবং বঙ্গবাজারের অগ্নিকান্ডে সর্বস্বান্ত হয়েছে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লক্ষণীয় বিষয় যে, রাজধানীর বড় শপিংমলগুলো রয়েছে অগ্নিকান্ডের বাইরে। এ কথা সত্য যে, এসব শপিংমলে অগ্নিকান্ডের কোনো সুযোগ থাকে না। কারণ, মার্কেটের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের মধ্যেই রয়েছে, অগ্নিকান্ড নিরোধক ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী দিয়ে সাজানো, এসব মার্কেটের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ক্রেতাসাধারণের জন্য যথেষ্ট স্বস্তিকর। যদিও এখানে অধিকাংশ ক্রেতাই উচ্চবিত্ত। কিন্তু মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের মার্কেটে নিয়মিত অগ্নিকান্ডে, সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘ভোরের আগুনে নাশকতার গন্ধ’ শিরোনামের ৪টি সংবাদে বিষয়টির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। আগুনে প্রাণহানির পাশাপাশি নিঃস্ব হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করছেন, এসব অগ্নিকান্ডের পেছনে ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নাশকতার আলামত পাচ্ছেন তারা। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ এপ্রিল ভোরে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে লাগা আগুনে প্রায় চার হাজার ব্যবসায়ীর সম্বল শেষ হয়ে গেছে। ঈদের আগে বিশাল এই ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। গত ২৭ মার্চ সকালে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। এতে শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। ৫ মার্চ সকালে সায়েন্স ল্যাবের শিরিন ম্যানশনে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ৫ জন নিহত হন। ৭ মার্চ বিকেলে সিদ্দিকবাজারে ক্যাফে কুইন ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি বহুতল ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৫ জন মারা যান। ১ মার্চ গোপীবাগে একটি রিকশার গ্যারেজ আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। ২৮ মার্চ দুপুরে মধ্য বাড্ডায় একটি মিষ্টির দোকানে আগুন লাগে। আগুনে দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। আগুনে বস্তির শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। একই দিন সকালে রাজধানীর মৌচাকে একটি বহুতল ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বরের ১০৪ নম্বর সড়কের ২/এ হোল্ডিংয়ের ১৪তলা ভবনের ১১তলায় আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে বাঁচতে লাফ দিয়ে আহত একজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি কড়াইল বস্তিতে একবার আগুনের ঘটনা ঘটে। ১০ ফেব্রুয়ারি ভাসানটেক বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ৯ ফেব্রুয়ারি সোয়ারীঘাট এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে।
এসব অগ্নিকান্ডের বিষয়ে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে লম্বা সময় লাগছে। আর এ কারণে আমাদেরও মনে হয়েছে এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে। সেজন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অমূলক কিছু না। তাদের অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। বঙ্গবাজার ও নিউ সুপার মার্কেটে একই সময় আগুন লাগায় বিষয়টি নিয়ে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।’
অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক, এখানে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি নেই, এটি নাশকতা কি না? এসব বিষয় সাধারণের বিবেচ্য নয়। মার্কেটে আগুনের কোনো ভয় থাকবে না, ক্রেতা আতঙ্কমুক্ত পরিবেশে কেনাকাটা করবেন এবং বিক্রেতা কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না এ বিষয়ে নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে।
