ঈদের লম্বা ছুটিতে প্রতি বছরই কনটেইনার জট সৃষ্টির আশঙ্কায় বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবে তা নিয়ে চলে দফায় দফায় বৈঠক। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। বন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এবারের ঈদের ছুটিতে কোনো ধরনের জট সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউস (টোয়েন্টি ফিট ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে সেখানে কনটেইনার রয়েছে ৩৫ হাজার টিইইউস। ধারণক্ষমতার ৩৩ শতাংশ ইয়ার্ড খালি রয়েছে।
আগামী ১৯ এপ্রিল পবিত্র শবেকদরের ছুটি রয়েছে। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি। ২৩ এপ্রিল এই ছুটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তা আরও এক দিন বাড়তে পারে।
সাধারণত দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চললেও বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটিতে থাকার কারণে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি খুব একটা হয় না। তা ছাড়া ঈদকে ঘিরে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারণেও পণ্য ডেলিভারি ব্যাহত হয়। বন্দর থেকে সাধারণত দৈনিক চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার কনটেইনার পণ্য ডেলিভারি হলেও ঈদের ছুটিতে তা এক হাজারের নিচে চলে আসে। কিন্তু জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো স্বাভাবিক থাকে। যে কারণে ইয়ার্ডে স্থান সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম।
বন্দর-সংশ্লিষ্টদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, বিলাসবহুল দ্রব্য আমদানিতে কড়াকড়ি ইত্যাদি কারণে দেশে পণ্য আমদানি আগের বছরগুলোর তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। যে কারণে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট নেই বললেই চলে। কমেছে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময়ও। বন্দরের বহির্নোঙরে আসার পর পণ্যবাহী জাহাজ দিনে দিনে বার্থিং পাওয়ার উদাহরণও রয়েছে। এ অবস্থায় এবারের ঈদের ছুটিতে ডেলিভারি আগের মতো কমলেও কোনো ধরনের কনটেইনার জট সৃষ্টির আশঙ্কার কথা ভাবছেন না তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইয়ার্ডের প্রায় ৩৩ শতাংশ খালি রয়েছে। বহির্নোঙরে অতিরিক্ত কোনো জাহাজ নেই। এ অবস্থায় এবারের ঈদের ছুটিতে বন্দরের কোনো ধরনের জট সৃষ্টির আশঙ্কা করছি না।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে লম্বা ছুটি থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে শুধু শবেকদরের রাত ও ঈদের দিন এক বেলা। এ ছাড়া বাকি সময়গুলো যথারীতি অপারেশনাল কাজ অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে বন্দর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য থাকবে বিশেষ মনিটরিং টিম।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে গতকাল রবিবার জাহাজের সংখ্যা ছিল ৭৪টি। এর মধ্যে ১৯টি জাহাজ থেকে বিভিন্ন জেটিতে পণ্য খালাস চলছিল। বহির্নোঙরে থাকা ৫৫টি জাহাজের মধ্যে ৩১টিতেই কাজ চলছিল। এদিন জেটিতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা কনটেইনার জাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি।
