এ বছরের রমজান মাস সোমালিয়ায় রেকর্ড দীর্ঘ খরার মধ্যে পড়েছে। সূর্যাস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন নানা রকমের খাবার দিয়ে ইফতার করেন, তখন হাদিক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ এবং তার পরিবারের কাছে শুধু পানি এবং সামান্য কিছু খাবার হাতে থাকতে পারে। হাদিক মোহাম্মদ ১০ লাখেরও বেশি সোমালিদের অন্যতম যারা সাহায্যের সন্ধানে তাদের বাড়িঘর ছেড়েছেন এবং শুধুমাত্র গত বছরই আনুমানিক ৪৩ হাজার মানুষ মারা গেছে। তিনি, তার স্বামী এবং তাদের ছয় সন্তান এখন রাজধানী মোগাদিসুর আশপাশে ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতদের শিবিরগুলোর একটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে এবং পরপর পাঁচটি ব্যর্থ বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় ফসল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে এমন একটি দেশের জন্য রমজান মাসে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এসেছে। লাখ লাখ গবাদি পশু মারা গেছে, যা মানুষের খাদ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখন বাস্তুচ্যুতদের জন্য খাবার পাওয়া আরও কঠিন। রমজানে হাদিক মোহাম্মদ এবং তার পরিবার তাদের খাবার সংস্থানের জন্য শুভাকাক্সক্ষীদের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে পানি ও খেজুরের টুকরো দিয়ে, তারপর এক চামচ চাল দিয়ে রোজা ভাঙে। অবশেষে তারা মিশ্র গোশত, থেঁতলে যাওয়া কলা এবং রসের একটি ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে রান্না করা ভাতের দান করা খাবার খায়, যা পাওয়ার জন্য মোহাম্মদ সূর্যের তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘এই বছর আমরা এমন একটি ক্যাম্পে বাস করছি যেখানে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ওপরে কোনো ছাউনি নেই, খাবার ছাড়াই, তৃষ্ণার্ত এবং খরার সম্মুখীন। আমাদের এই ছোট গরম খাবার আছে, কিন্তু আপনি কি মনে করেন যে, এটি ছয় সন্তানের পরিবার এবং একজন মা এবং বাবাকে খাওয়াতে পারে? এটা সম্ভব নয়।’
রাজধানী থেকে পশ্চিমে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) দূরে একটি গ্রামে পরিবারটি একসময় সমৃদ্ধিশালী ছিল এবং চাষের জমি এবং ছাগলের মালিক ছিল। এখন তারা তার স্বামীর ঠেলাগাড়িতে মালামাল বহন করে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করে তা জোগানোর চেষ্টা করে। কিন্তু খাবারের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে, তার আয় আর ১ কিলোগ্রাম (২.২ পাউন্ড) চাল কেনার জন্য যথেষ্ট নয়।
