বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এর সঙ্গে ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। গতকাল সোমবার বেজা কার্যালয়ে এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। বেজার মহাব্যবস্থাপক (বিনিয়োগ প্রচার) মো. মনিরুজ্জামান ও ডিবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. আনোয়ার শওকাত আফসার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। অনুষ্ঠানে ডিবিসিসিআই সভাপতি মো. আনোয়ার শওকত আফসার বলেন, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। ডিবিসিসিআই এখন বেজা থেকে অধিভুক্তি পেয়েছে। এখন ডিবিসিসিআইর সহযোগিতায় ডাচ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন। তিনি জানান, ডিবিসিসিআই ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিবছর বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ড এ বিনিয়োগ উন্নয়ন সম্পর্কে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করে থাকে ডিবিসিসিআই। জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো একটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বেজার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ডিবিসিসিআই সভাপতি আসন্ন ইভেন্ট “বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট রোড শো বেনেলক্স-২০২৩ তুলে ধরেন, যা আগামী ২৩-৩০ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত হবে। মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশি ও ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন।
সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে বেজা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে জমি প্রদান করছে। দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, দেশীয় চাহিদা পূরণ ও রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বেজা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে জিটুজি ভিত্তিতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল (ভারত, জাপান এবং চীনের সঙ্গে) গড়ে তুলছে বেজা। এ ছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বেজা’র আওতাধীন যে সব সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ চলমান রয়েছে সে সব অঞ্চলে ডাচ বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ করছেন, যার মধ্যে নেদারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তিনি বেজা কর্তৃক স্থাপিত ট্যুরিজম পার্কসমূহে বিনিয়োগের জন্য ডাচ বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
