ঈদের আগে দেশে ফিরতে পারছেন না সালাহউদ্দিন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:৪৫ এএম

দীর্ঘ ৮ বছর পর দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চেয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু দেশে ফেরার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় ঈদের আগে ফিরতে পারছেন না তিনি। ঈদের পরে সালাহউদ্দিন দেশে ফিরতে পারবেন। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরের কাছে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সালাহউদ্দিনের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘ভারতের আদালত সালাহউদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আগে শিলংয়ে গিয়েছিলাম আমি। কিন্তু ঈদের আগে সালাহউদ্দিন দেশে ফিরতে পারবেন না এমন খবরে এবং দেশে কাজ থাকায় দেশে ফিরে এসেছি।’

ছেলেমেয়েরা কোথায় জানতে চাইলে হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশুনা করে। ছেলের বাবা দেশে ফিরতে পারলে তারাও দেশে ফিরত। এখন ভারতে গিয়ে সবাই মিলে ঈদ করতে হবে।’

‘দেশে ফেরার উদ্যোগ কতদূর’ জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি তো আজই দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু এটা তো আমার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। ভারতের আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে তার কপি দিল্লিতে পররাষ্ট্র দপ্তরে পৌঁছেছে। এখন দুই দেশের সরকার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর সময় নির্ধারণ করবে দুই দেশের সরকার।’   

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারত ও বাংলাদেশ সরকারকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে অনুরোধ রেখেছিলেন। গত ৯ মার্চ গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অন্যতম ভ্যানগার্ড সালাহউদ্দিন আহমেদকে অবিলম্বে আমাদের মধ্যে ফেরত চাই। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে বাংলাদেশের এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে অবিলম্বে সসম্মানে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাচ্ছি তার মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য ও সম্মানিত করার জন্য।’

সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। আমি ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে দিতে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা ও সাবেক আমলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন রাজনীতিবিদ। দুই দেশের রাজনীতির বিষয় এখানে জড়িয়ে আছে। সময় সুযোগ বুঝে তাকে ভারত সরকার দেশে পাঠাবে বলে মনে করি।’

গত ২ মার্চ ভারতের আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে আটক সালাহউদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশে পাঠাতে ভারত সরকারকে নির্দেশনা দেয়। সদ্য কারামুক্ত স্থায়ী কমিটির এই সদস্য দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন।

ভারতের আদালত বেকসুর খালাস দেওয়ার পর বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভারত সরকার সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশে পাঠাতে বাধ্য। তারা এক্সিট ভিসা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে। আদালতের নির্দেশে বেকসুর খালাস পাওয়ায় তিনি এখন মুক্ত মানুষ। এরপর তিনি দেশে এলে মামলা থাকলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।’

আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নিম্ন আদালতের রায়ে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে করা মামলা থেকে বেকসুর খালাস পান সালাহউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এর ফলে তখন দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ ৪ বছর পর নিম্ন আদালতের ওই রায় বহাল রেখে ভারত সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে জজ আদালত।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আদালতে বিচারের রায় আসার আগ পর্যন্ত আমাকে জামিন দিয়েছিল। আমি এখানে একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। এখনো সেখানেই আছি। দেশ থেকে স্বজন, নেতাকর্মীরা মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নিতে আসে। এভাবেই কেটেছে এতগুলো দিন।’

সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দেশেও অসংখ্য মামলা রয়েছে। দেশে ফিরলে তাকে নতুন করে আইনি মোকাবিলা করতে হতে পারে। ভারত থেকে মুক্তি পেলেও দেশে ফিরে তাকে কারাগারে যেতে হবে।’

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ সালাহউদ্দিনকে উদ্ধারের পর সেখানকার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। এর পরদিন তাকে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখায় মেঘালয় থানা পুলিশ। একই বছরের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযোগ গঠন করা হয়। সালাহউদ্দিন যখন নিখোঁজ ছিলেন, তখন বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের মুখপাত্র হিসেবে ভিডিও বার্তা দিতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত