বিএসএমএমইউর সেমিনার

নিবন্ধিত হিমোফিলিয়া রোগী ২২০০

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:৪৮ এএম

বাংলাদেশে নিবন্ধিত হিমোফিলিয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০ জন। তবে রোগীর প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। গতকাল সোমবার এক সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা এ তথ্য জানান।

চিকিৎসকরা বলেন, হিমোফিলিয়া একটি রক্তক্ষরণজনিত জন্মগত রোগ। এই রোগে বংশানুক্রমে পুরুষরাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে এই রোগের বাহক নারীরা। বিশেষ ক্ষেত্রে নারীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অন্য রোগের কারণেও হিমোফিলিয়া রোগ দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস উপলক্ষে বিএসএমএমইউয়ের হেমাটোলজি বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ও মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম বক্তব্য দেন। হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহ উদ্দিন শাহ মূল প্রবন্ধ এবং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুজাহিদা রহমান, রেসিডেন্ট ডা. তানভীর আহমেদ মেহেদী এবং ডা. মো. আব্দুল্লা আল মামুন পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, স্বাভাবিকভাবে শরীরের কোনো জায়গায় আঘাত পেলে বা সামান্য কেটে গেলে ওই স্থান থেকে যে রক্তক্ষরণ হয়, তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু হিমোফিলিয়া রোগীর ক্ষেত্রে সহজে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না বা দেরি হয়। সাধারণত হিমোফিলিয়া রোগীর সঙ্গে আত্মীয়ের (মামাতো, খালাতো বোনের) বিয়ে হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসকরা জানান, হিমোফিলিয়া রোগের তীব্রতা বেশি হলে আঘাত ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে এবং অস্থিসন্ধি বা গিরায় বা মাংসপেশিতে বারবার রক্তক্ষরণ হতে পারে। বারবার রক্তক্ষরণের ফলে ধীরে ধীরে গিরায় ক্ষয় এবং বিকৃতি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া স্পর্শকাতর অংশে (যেমন মস্তিষ্ক, খাদ্যনালি, মেরুদণ্ড) রক্তক্ষরণ হলে জীবন বিনাশের বা স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সেমিনারে তুলে ধরা বিশ্ব হিমোফিলিয়া ফেডারেশনের বার্ষিক সার্ভের (২০২০) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি লাখ নবজাতক ছেলে শিশুদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৬ জন হিমোফিলিয়া-এ এবং ৫ জন হিমোফিলিয়া-বি রোগে আক্রান্ত।

এ বিষয়ে চিকিৎকরা জানান, হিমোফিলিয়া রোগীদের চিকিৎসার মূল লক্ষ্য ফ্যাক্টর প্রদানের মাধ্যমে রক্তপাত দ্রুত বন্ধ করা এবং তীব্র রোগীদের ক্ষেত্রে যেন রক্তপাত শুরু না হয় সেজন্য নিয়মিত ফ্যাক্টর প্রদানের ব্যবস্থা করা। হিমোফিলিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টারের (এইচটিসি) মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া। গিরা ক্ষয় বা বিকৃত হয়ে গেলে ফিজিক্যাল থেরাপি বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এদেশে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্যাক্টরের সহজলভ্যতা কম এবং বাজার মূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীর পক্ষে তা কিনে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত