প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারবে বায়ার্ন?

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০১:৫২ এএম

ঘটনা ১

২০১৭-১৮ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ। ন্যু ক্যাম্পে ৪-১ গোলে বার্সেলোনা সহজেই হারাল এএস রোমাকে। সপ্তাহের ভেতর রোমার মাঠে উল্টে গেল সব। রোমা ৩, বার্সেলোনা ০। এডেন জেকোর অ্যাওয়ে গোলে বার্সাকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে রোমা।

ঘটনা ২

২০১৮-১৯ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। আবার ন্যু ক্যাম্প। এবার মেসির জোড়ায় বার্সেলোনা ৩-০ গোলে জিতে মনে করেছিল উঠেই গেছে ফাইনালে। কিন্তু অ্যানফিল্ডে লিভারপুল লিখল অন্য গল্প। ৪-০ গোলে জিতে ফাইনালে অলরেডরা এবং পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন।

তিন বা বেশি গোলে প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের এমন গল্প চ্যাম্পিয়নস লিগে আছে আরও দুটি। আজ ঘরের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখ সেই গল্প লিখতে পারবে কি না সেটাই প্রশ্ন। ইতিহাদে ৩-০ গোলে জিতে এগিয়ে থাকা দলটি ম্যানসিটি, যাদের আছে আর্লিং হালান্ড নামের গোলমেশিন। তাদের টপকে ফাইনালে যেতে চাই ৪-০ গোলের জয়।

সিটির বিপক্ষে ইতিহাদে প্রথম লেগ হারের পর বায়ার্নের ড্রেসিং রুমে ঝামেলা হয়। হাতাহাতিতে জড়ান লেরয় সানে ও সাদিও মানে। ওই ঘটনার জন্য শাস্তিস্বরূপ শুক্রবার হফেনহেইমের বিপক্ষে বুন্দেসলিগা ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয় মানেকে। জরিমানাও করা হয়। সানে ও মানের বিষয়টি জানা আছে সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার। অনেকের ভাবনা বিষয়টি সিটির বিপক্ষে ম্যাচের আগে বায়ার্নকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তবে অন্যদের ভাবনার সঙ্গে একমত নন ম্যানসিটি কোচ গার্দিওলা। মানে ও সানের ঘটনাটি বায়ার্নের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গার্দিওলা বলেন, ‘অবশ্যই। মাঝে মাঝে দলকে আরও একতাবদ্ধ করতে এমন মতবিরোধের প্রয়োজন হয়। এটি তাদের জন্য দুর্বলতা নয়, বরং একটি শক্তিশালী দিক।’ প্রথম লেগে বড় জয় পেলেও প্রতিপক্ষ বায়ার্ন বলেই সতর্ক গার্দিওলা। ‘আমি এমন একটি দল দেখতে চাই যারা সেখানে ম্যাচ জেতার জন্য খেলবে। আমি জানি বায়ার্নের বিপক্ষে খেলার মানে কী, একটু ভুল হলেই সমস্যায় পড়তে হবে।’

মানেকে ছাড়া হফেনহেইমের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে টমাস টুখেলের বায়ার্ন। ম্যাচের শুরুতে গোল করেও লিড ধরে রাখতে পারেনি বাভারিয়ানরা। মানে দলে ফিরবেন। তবে একাদশে শুরু থেকে থাকবেন কি না সেটি দেখার বিষয়। ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য আছে জয়ের ধারায়। বায়ার্নের বিপক্ষে প্রথম লেগ জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগে তারা ৩-১ এ হারিয়েছে লেস্টার সিটিকে। সেই ম্যাচেও জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। নওরোজিয়ান এই স্ট্রাইকারকে প্রথম লেগে রুখতে পারেনি বাভারিয়ানরা। দ্বিতীয় লেগে পারবে তো?

দিনের আরেক ম্যাচে সান সিরোতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বেনফিকার বিপক্ষে খেলতে নামবে ইন্তার। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউট পর্বে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর ফিরে আসার গল্পটা ভালোই আছে। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে ৯ বার। সবশেষ সিরি’আ ম্যাচে ঘরের মাঠে মোনজার সঙ্গে ১-০ তে হেরেছে ইন্তার। তাই বেনফিকা আশা করতেই পারে সেমিফাইনালে যাওয়ার। ইন্তার মিলান সেমিতে উঠলে তারা একটি সুবিধা পাবে। তা হলো সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে ইতালিয়ান ক্লাব। অর্থাৎ চেনা প্রতিপক্ষ পাবে ইন্তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত