জাবি শিক্ষক সমিতি

গুচ্ছে থাকার আদেশ রাষ্ট্রপতির কোন ক্ষমতাবলে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৪২ এএম

গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) না থাকার বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কোন ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আদেশ দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল বুধবার জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ কে এম লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন কথা বলা হয়। এর আগে গত সোমবার অনলাইনে শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৫ মার্চ ৬৪তম বিশেষ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তবে ওই সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করতে প্রশাসন কালক্ষেপণ শুরু করে। শিক্ষকদের উপর্যুপরি দাবির মুখে ৩০ মার্চ কার্যবিবরণী প্রকাশ করে। ৬ এপ্রিল ৬৫তম বিশেষ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ ইউনিট কমিটি গঠন করা হয় এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিট কমিটি কাজও শুরু করে।’

গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকতে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয় সংসদ কর্র্তৃক প্রণীত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুযায়ী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সর্বোচ্চ কর্র্তৃপক্ষ। কাজেই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পাস হলে তা বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা থাকে না। এ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আবারও কালক্ষেপণ শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করিয়ে ৭০০ শিক্ষকের মতামত ও চাওয়াকে অগ্রাহ্য করেন। এ সময় বিভিন্ন মহল রাষ্ট্রপতির আদেশের কথা বললেও আমরা সেটা বিশ্বাস করিনি, কারণ জাতীয় সংসদ কর্র্তৃক পাসকৃত বিশ্ববিদ্যালয় আইন রহিতকরণ ব্যতিরেকে এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব নয় বলে অনেকেই মনে করেছেন। যা হোক সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য অনুরোধ করে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তির সার্কুলার দেওয়ার পথে তখনই সুকৌশলে আনা হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি, আমাদের আচার্য এর অভিপ্রায় বা আদেশ। এই আদেশ হাতে পাওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ১৭ এপ্রিল ৬৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বিশেষ সভা ডাকে। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষক সমিতিকে একটি সাধারণ সভা করে ওই বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা দুদিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই যুক্তিতে উপাচার্য সে সময়টুকু দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে সমিতির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয় এবং বলা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০০ শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি কাজেই সাধারণ সভার মতামত না জানিয়ে এতে মত দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশাসন এ কথায় গুরুত্ব দেয়নি। বরং বলেছে, রাষ্ট্রপতির আদেশের ওপর কোনো বিতর্ক থাকা যাবে না, তাহলে এটি অবমাননার শামিল হবে। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের আইনি পরিপ্রেক্ষিত বিশ্লেষণ করে একজন সহকর্মী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এই আদেশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫-এর পিতৃ আইনের ওপর কাজ করতে পারে না এবং রাষ্ট্রপতি কোন আইনে এই আদেশ দিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রশাসন সে বিশ্লেষণেও গুরুত্ব দেয়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত ৬৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আমরা বলেছি যে রাতের মধ্যে শিক্ষক সমিতি সাধারণ সভা করব এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনে রাতেই উপাচার্যকে জানাব। কিন্তু তিনি সে অনুরোধ রাখেননি। এত কিছুর পরও এবং রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রশ্ন থাকলেও রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় ও প্রজ্ঞাপনকে সম্মান জানিয়ে আমরা এবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণে মত দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত