পবিত্র রমজান শেষে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ রমজান মাস শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায়। আজ শুক্রবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শনিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। চাঁদ দেখা না গেলে রবিবার উদযাপিত হবে ঈদ।
ইতিমধ্যেই সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঈদ উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে শহরের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে চলে গেছে। ত্যাগের মহিমায় এক মাস রোজা রাখার পর ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজনসহ নিজ নিজ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসলমানরা।
জামাতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সবাই সবার সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এবার ২৪ মার্চ থেকে শুরু হয় রোজা।
ইসলামি স্কলাররা বলছেন, রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর ঈদ উৎসব মুসলিম জাতির প্রতি মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে এক বিরাট নেয়ামত ও পুরস্কার। মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সদস্যের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, মমতা ঈদের এ পবিত্র ও অনাবিল আনন্দ উৎসবে একাকার হয়ে যায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানসহ সব ঈদগাহে কড়া নিরাপত্তায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বড় বড় অনেক মসজিদে এবার একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
চিরাচরিত রীতি অনুসারে, রোজা শুরুর পরই ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। মাসব্যাপী কেনাকাটা শেষে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি থাকে মানুষের ঘরে ঘরে। এ উপলক্ষে রাজধানীকে সাজানো হয় বিশেষভাবে। সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও বিশেষ বিশেষ ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। দেশের কোথাও আজ চাঁদ দেখা গেলে শনিবার ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হবে। তা না হলে রবিবার ঈদ হওয়ার কথা জানানো হবে। বাংলাদেশের আকাশের কোথাও শুক্রবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে তা জানানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের চারদিকে বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির করার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁশের কাঠামোর ওপর শামিয়ানা টানানোর কাজও শেষ হয়েছে। মাইক ও বৈদ্যুতিক তার লাগানোর কাজও শেষপর্যায়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবার ঈদের পাঁচটি জামাত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। আর ১০টা ৪৫ মিনিটে হবে পঞ্চম ও শেষ জামাত।
শনিবার ঈদের সম্ভাবনা বেশি!
আজ শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে বলে স্থানাঙ্ক প্রকাশ করেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরে গত বুধবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর সেই স্থানাঙ্কের প্রতিবেদনটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়। সেখানে আজকের চাঁদের অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, চাঁদের অবস্থানগত কারণে আকাশ মেঘমুক্ত থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্র্তৃক প্রকাশিত শাওয়াল মাসের ক্ষেত্রে চাঁদের স্থানাঙ্কে বলা হয়েছে, ২১ এপ্রিল সূর্যাস্তের সময় চন্দ্র তিথির দ্বিতীয়া। সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১ দশমিক ৩৪০৫ দিন। শুক্রবার চাঁদ দেখার নির্ধারিত সময় ৬টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা পর্যন্ত। সান্ধ্যকালীন চাঁদের স্থায়িত্ব হবে ৫৩ মিনিট ৮ সেকেন্ড। সে হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে চাঁদের স্থানাঙ্কের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এদিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান, ব্রুনাই, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় আগামীকাল শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। গতকাল এসব দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
এর আগে আবুধাবিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) টুইট করে জানিয়েছিল, জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে খালি চোখে এবং আরববিশ্বের বেশিরভাগ দেশে টেলিস্কোপের মাধ্যমে শাওয়াল মাসের চাঁদের দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। লিবিয়াসহ পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশে চাঁদ দেখা যেতে পারে।
কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব গতকাল চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব দেশটির তুমাইর এবং সুদাইর অঞ্চলে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার কথা ঘোষণা করেছে। সৌদি আরবের প্রধান মহাকাশবিদ ড. আবদুল্লাহ খুদাইরির নেতৃত্বে সুদাইর চাঁদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চাঁদ দেখার কথা সৌদি সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করে সরকারি ডিক্রিও জারি করেছে।
