শেষ মুহূর্তে জমেছে বিপণি কেন্দ্রগুলো

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৩, ০১:০০ এএম

রোজার শেষ দিকে জমে উঠেছে বন্দর নগরীর বিপণি কেন্দ্রগুলো। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই চলছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদভারে মুখর থাকছে সবগুলো মার্কেট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার শুরুতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও তখন খুব একটা বেচাকেনার চাপ ছিল না। কিন্তু শেষার্ধে এসে গরমের মধ্যেই মানুষ মার্কেটে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

রাত দেড়টা নগরীর আমতলা মোড় থেকে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তায় যানজট। নগরীর নিউ মার্কেট ও রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে শপিং ব্যাগ হাতে দলে দলে লোকজন বের হচ্ছে। সবার পুরো শরীর গরমে ঘেমে একাকার। কিন্তু সেদিকে তাকানোর যেন ফুরসত নেই কারওর। সবাই ব্যস্ত ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে স্বজনদের জন্য শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়।

আগামীকাল শুক্রবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে হিসাবে ঈদের বাকি আর মাত্র এক দিন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ। গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। এর মধ্যেও ঈদের ছুটি শুরুর আগে সবাই এখন পুরোদমে ব্যস্ত কেনাকাটায়।

নগরীর একাধিক বিপণিকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই ব্যস্ততা। বেশিরভাগ ক্রেতাই ছুটে যাচ্ছেন তাদের পছন্দের মার্কেটে। আবার অনেকেই ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। পরিবার পরিজন নিয়ে পছন্দের পোশাক ও অন্য জিনিসপত্র কেনায় ব্যস্ত সবাই। আর ক্রেতাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিভিন্ন দোকানের সেলসম্যানরা। ছেলেরা কিনছেন পাঞ্জাবি, পাজামা, শার্ট, টি-শার্ট ও প্যান্ট আর মেয়েরা কিনছেন থ্রি-পিস, শাড়ি ইত্যাদি। আর জামা-কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে কেনা হচ্ছে জুতা, গহনা ও প্রসাধনী সামগ্রী।

বিশাল আয়তনের বিপণিকেন্দ্র নগরীর ষোলোশহরে অবস্থিত চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স। মার্কেটের নিচতলার বিশাল একটি অংশ জুড়ে রয়েছে এক ডজনের বেশি জুতার শোরুম। গত বুধবার বিকেলে প্রতিটি দোকানেই দেখা গেছে ক্রেতার ভিড়। দুপুরে নগরীর চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সে ঈদের কাপড় কিনতে যান একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হোসেন। সঙ্গে স্ত্রী ও দশ বছরের ছেলে। তিনি বলেন, ঈদে নতুন পোশাক এটা আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ হয়ে আছে। পরিবারের সদস্যদের নতুন কাপড় না দিলে ঈদের আনন্দটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই গরমের মধ্যেও মার্কেটে ছুটে আসা।

ওই মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত পাঞ্জাবির শোরুম সামিহা ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক বিক্রয় কর্মকর্তা সাজেদুর রশিদ জানান, দিনের চেয়ে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা বেশি আসছেন। তিনি জানান, ঈদে সব শ্রেণির মানুষের কাছে পাঞ্জাবির বিশেষ কদর রয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবির প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। আর সেলাই করার ঝামেলা না থাকার কারণে রোজার শেষ দিকে এসেই মানুষ পাঞ্জাবি কিনতে আসেন।

১৫ রমজানের পর থেকে পাঞ্জাবির বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে। শেষ দিকে এসে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি বেড়েছে।

নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিপণিকেন্দ্র রেয়াজউদ্দিন বাজার ও নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীষণ ব্যস্ততা। রেয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমুন্ডি লেন দিয়ে প্রচ- ভিড় ঠেলেই ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সেখানে বাচ্চাদের পোশাকের দোকান রহমান ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক আবদুল কাদের জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্য যেকোনো মার্কেট থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মার্কেট হিসেবে রেয়াজউদ্দিন বাজারের ঐতিহ্য রয়েছে। তাই এখানে ক্রেতাদের সমাগমও বেশি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত