রাজবাড়ী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বরাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম শেখ সুমন সবুজ। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বাড়ির জানালা দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সজীব হোসেন নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সবুজ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা গ্রামের শামসুল আলম বাবুর ছেলে ও বরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদের ভাতিজা।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির পাশেই পদ্মা নদীতে টাকার বিনিময়ে মানুষের স্প্রিড বোর্ডে ঘোরানোর ব্যবসা করতেন সবুজ। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে সবুজের ব্যবসার সহযোগীরা মিলে নতুন নির্মাণ করা পাকা ঘরে বসে হিসাব করছিলেন। এ সময় সবুজ ছাড়া ঘরে আরও আটজন ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের জানালা দিয়ে সবুজকে লক্ষ করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। পরে সবুজ ও সজীব নামের একজনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সবুজের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান।
সবুজের চাচাতো ভাই জুয়েল শেখ বলেন, ‘সবুজের সঙ্গে আমিও ছিলাম ঘরের ভেতর। জানালা দিয়ে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলি করার পরই আমরা দরজা খুলে সবাই পালিয়ে যাই। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পরে দেখি সবুজ রুমের মধ্যেই পরে আছে। ওর কপালে গুলি লেগেছে।’
সবুজের চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ বলেন, ‘গত ছয় মাস আগে যুবলীগের কমিটি করা নিয়ে এলাকার কিছু ছেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় সবুজের। এ ছাড়া এলাকায় কোনো ঝামেলা নেই কারও সঙ্গে। আর কিছুদিন ধরে ওর সমবয়সী কয়েকজন মিলে স্প্রিড বোর্ডের ব্যবসা শুরু করেছে। যারা নদীতে ঘুরতে চান তাদের টাকার বিনিময়ে ঘোরায়। আমরা এখন আসলে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শোকাহত। সবুজ ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদর উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে কাজ করছে পুলিশ। সময়মতো আমরা সবকিছু জানাব।
