বগুড়া শহরের সাতমাথায় প্রধান ডাকঘরে ভোল্ট কেটে ডাকাতি করে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব থাকা এক অফিস সহায়ককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম প্রশান্ত আচার্যেক (৪৮)। গত রবিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল সোমবার ভোররাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওই ভোল্ট থেকে কী পরিমাণ টাকা লুট হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। নিহত প্রশান্ত আচার্য বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া এলাকার প্রাণ কৃষ্ণ আচার্যের ছেলে। পুলিশ ডাকঘরের ভেতর থেকে ১০০ ফুটের বেশি বৈদ্যুতিক তারকাঁটার, শাবল, চাকু, হ্যান্ডগ্লাভস, গামছা উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, বগুড়া প্রধান ডাকঘরের ৪ জন নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকেন। ঈদের ছুটিতে নৈশপ্রহরীরা বাড়িতে থাকায় তাদের বদলি ডিউটি হিসেবে অফিস সহায়ক প্রশান্ত রবিবার রাতে অফিসে আসেন। গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী বিষ্ণু হরিজনের ছেলে আশিক ডাকঘরে ঝাড়ু দিতে আসেন। এ সময় ডাকাডাকি করে গেট না খুললে গেটের ওপর দিয়ে ভেতরে আসেন তিনি। এরপর ভেতরে দেখতে পান কাগজপত্র ছড়ানো ছিটানো ও প্রশান্ত আচার্য রক্তাক্ত পড়ে আছেন। নিহত প্রশান্তের ছোট ভাই দুলাল আচার্য বলেন, রাত সাড়ে ১০ টার পর বেজোড়া মধ্যপাড়া হরিবাসরে থাকা অবস্থায় ফোন আসে। তারপর সেখান থেকে রওনা করে অফিসে আসেন। নিহতের ছেলে জয়ন্ত কুমার আচার্য জানান, প্রতিবছর ঈদের সময় নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছে প্রশান্ত। কিন্তু অন্য সময় অফিসের নির্ধারিত কাজ করত।
বগুড়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল রাকিব বিশ্বাস জানান, প্রশান্ত আচার্য বদলি নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ভোল্ট কেটে টাকা লুট করার চেষ্টা করেছে। তারা প্রশান্তকে খুন করে ভোল্ট কেটে টাকা লুট করেছে।
বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আকতার জানান, পুলিশ এ ঘটনা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
