ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৩৯ এএম

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর শতভাগ প্রস্তুত উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেছেন, এরই মধ্যে দুটি ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমাদের যে দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে তাতে অনায়াসে ৪৫ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারব। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। জেনারেল কার্গো ওঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ৯৬ লাখ টন। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪৩৬১টি। ক্রমবর্ধমান হ্যান্ডলিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে স্বল্প এবং মধ্যমেয়াদি কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫৮৪ মিটার দীর্ঘ জেটিসহ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ও ভবিষ্যতে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হেভি লিফট জেটি, বে-টার্মিনাল এবং কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পসমূহের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, সেখানে বন্দর নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে প্রাপ্ত দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। বর্তমানে আর্থিক মূল্যায়ন চলছে। আশা করা যায়, চলতি বছরে মাতারবাড়ী টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে সেখানে ডিপ ড্রাফট ভেসেল (১৬ মিটার বা ততোধিক গভীরতাসম্পন্ন) গমনাগমন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। টার্মিনালটি চালু হলে আমাদের পাশের দেশ ভারতের কলকাতা, হলদিয়া, বিশাখাপত্তনম, কাকিনাদাসহ এ অঞ্চলের বন্দরগুলো এটি ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের আকিয়াব, ইয়াঙ্গুনসহ আশপাশের বন্দরগুলো এটি ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারবে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরও তখন মাতারবাড়ীকে ফিডার পোর্ট হিসেবে ব্যবহার করবে।

কভিডের চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম বন্দর ভালোভাবে মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, করোনা অতিমারীর সময়ে বিশ্বব্যাপী কঠোর লকডাউন আরোপ এবং সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ জারির কারণে বিশ্বের বড় বড় বন্দর মারাত্মক জটের কবলে পড়ে অচল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান, সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত