এক পাল্লায় কনে অন্য পাল্লায় মুদ্রা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০১:২৪ এএম

বিয়ের পোশাকে দাঁড়িপাল্লার একদিকে বসানো হয়েছে কনেকে অন্য পাল্লায় রাখা হয়েছে কনের ওজনের সমান কয়েন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া ওই শিশুটির ওজনের সমান করতে রাখা হয়েছে ৮ হাজারটি ৫ টাকার কয়েন। অর্থাৎ ৪০ হাজার টাকা।

গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রাগপুর মাঠপাড়া গ্রামে বাবা রতন আলী এভাবেই তার শিশুকন্যাকে বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসিয়েছেন। এই সংক্রান্ত ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বাবা রতন আলী বলছেন, ‘আমার এই মেয়ে জন্মের আগে আরও দুটি মেয়ে জন্মের পরই মারা যায়। সে কারণে এই মেয়ের জন্মের সময় মানত করেছিলাম যে, মেয়ে বেঁচে থাকলে ওর বিয়ের

সময় সমপরিমাণ ওজনের মুদ্রা উপহার দেব। এটি যৌতুকের টাকা নয় বরং পাত্রকে উপহার।’ 

এ ঘটনায় স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার এলাকায় কোনোভাবেই বাল্যবিয়ে গ্রহণযোগ্য নয় সেজন্য ওরা আমাকে দাওয়াতও করেনি। আমি প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা জানতে পেরেছি। যেহেতু আমার এলাকার কাজি দ্বারা বিয়ে হয়নি, সে কারণে এই অল্প বয়সী মেয়ের বিয়ে আদৌ রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে কি না সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘এক পাল্লায় কনে অন্য পাল্লায় সমওজনের মুদ্রা বা কয়েন দিয়ে বিয়ের সংবাদটি শুনেছি।’ বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চ্যল্যের সৃষ্টি হয়। তবে মেয়েটি আমার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, কীভাবে এ বিয়েটি হলো সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই বেআইনি কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে এ বিষয়ে পাত্রপক্ষের লোকজনকে মোবাইলে ফোন করা হলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত