ভোলা সদর উপজেলার মালের হাট এলাকায় আরেকটি নতুন গ্যাসকূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। ইলিশা-১ নামের ওই কূপ থেকে প্রতিদিন ২০-২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কূপটিতে ১৮০ থেকে ২০০ বিসিএফ (বিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কূপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের অস্তিত্ব পরীক্ষা করা হয়। এর আগে বোমা ফাটানো হয় কূপের ভেতরে। তবে সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ আছে এবং দৈনিক কতটুকু উত্তোলন করা যাবে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
এ নিয়ে ভোলার মোট ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
গতকাল বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আরেকটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ভোলার ইলিশা-১ কূপে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান। চলছে পরীক্ষামূলক ডিএসটি (ড্রিল স্টেম স্টেট) টেস্টিং। আরও দুটি টেস্টিং শেষে আগামী মাসের মাঝামাঝি জানা যাবে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নতুন ৪৬টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভারের কাজ করছি। ২০২৫ সালের মধ্যে এসব কূপ থেকে আশা করছি আরও ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করতে পারব দেশের জাতীয় গ্রিডে।’
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে তিনটা স্তরে পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটিতে ৫ দিন করে ১৫ দিন সময় লাগবে। প্রথম স্তরের পরীক্ষা শুরু করেছি। এর আগে ভোলা বা শাহবাজপুরে প্রতিটিতে দৈনিক ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। আশা করছি, এই কূপ থেকেও প্রতিদিন ওই পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।’
দেশের জ¦ালানি সংকট মোকাবিলায় এই গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তিনটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আরও ১৫ দিন পর আমরা বলতে পারব সেখানে গ্যাসের চাপ কত, মজুদ কত, দৈনিক কী পরিমাণ উত্তোলন করা যাবে। তিনটি জোনেই সম্ভাব্য গ্যাসের অস্তিত্ব আমরা পেয়েছি। এই তিনটি জোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যাস যেখানে পাওয়া যাবে, সেটাকেই প্রোডাকশনের জন্য প্রস্তুত করব আমরা।’
দেশে জ্বালানির সংকট দূর করার লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ভোলার ইলিশা-১ কূপ খননের উদ্যোগ নেয় বাপেক্স।
গত মার্চের শুরুতে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মালের হাটসংলগ্ন এলাকায় ওই কূপ খননের কাজ শুরু হয়। বাপেক্সের নকশা ও নির্দেশনা অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম কূপটিতে খননকাজ পরিচালনা করছে। ২৪ এপ্রিল ৩ হাজার ৪৩৬ মিটার গভীরে প্রাথমিকভাবে গ্যাসের সন্ধান পেলে খননকাজ শেষ হয়। এরপর অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। এটি প্রায় চার কিলোমিটার বিস্তৃত।
১৯৮৬ সালে ভোলায় একটি দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পায় পেট্রোবাংলা। পরের বছর তৃতীয় ধাপে আরেকটি ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে শাহবাজপুর-১ গ্যাসক্ষেত্রে খনন কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোট আটটি কূপ খনন করা হয়। দুই বছর আগে বাপেক্সের একটি অনুসন্ধান দল ভূতাত্ত্বিক জরিপ করে গ্যাসের জন্য সম্ভাবনাময় বিবেচিত ভোলার তিনটি স্থানে গ্যাসের সন্ধান পায়। পরে সেগুলোর নাম দেওয়া হয় ইলিশা-১, ভোলা নর্থ-২ ও টবগী-১ গ্যাসকূপ। এগুলো নিয়ে দ্বীপ জেলা ভোলায় মোট গ্যাসকূপের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯। এতে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
