রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকায় গত ২৪ এপ্রিল রাতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দুই জাপানি পর্যটক। তাদের কাছ থেকে দেড় লাখ জাপানি ইয়েন, ২৮ হাজার টাকা এবং দুটি আইফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. খায়রুল ইসলাম স্বপন, জিহাদুল ইসলাম মামুন ও মো. আবু রাসেল প্রত্যয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে খোয়া যাওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচএম আজিমুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাপানের ওই দুই নাগরিক গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ এপ্রিল রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার হোটেল নন্দিনীতে ওঠেন। সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও সংলগ্ন কবরস্থানে ঘুরতে যান। রাত ৯টার দিকে জাপানি দুই নাগরিক কবরস্থান থেকে বের হতে চাইলে অজ্ঞাতনামা তিনজন যুবক তাদের মিসগাইড করে কবরস্থানের ভেতরের দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট, এক লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ জাপানি ইয়েন, ২৮ হাজার বাংলাদেশি টাকা, দুটি আইফোন, দুটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলথ কার্ড, একটি পোর্টেবল হটস্পট ও একটি ব্লু-টুথ ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে জাপানিরা ভয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরদিন হোটেল ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। হোটেল কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়।
ডিসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল কবরস্থানের গেট ও আশপাশে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনায় জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। ২৭ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের বোটঘাট এলাকা থেকে স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি আজিমুল হক বলেন, মোহাম্মদপুর থানার আরেকটি টিম অভিযান পরিচালনা করে সীতাকুণ্ড থানা এলাকা থেকে মামুন ও প্রত্যয়কে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে একটি আইফোন, ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন, একটি পোর্টেবল হটস্পট ও একটি ব্লু-টুথ উদ্ধার করা হয়। মামুন ও প্রত্যয় ছিনতাইয়ের পর ৯০ হাজার জাপানি ইয়েন ও অন্যান্য মালামালসহ প্রমোদ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার চলে যান। কক্সবাজার যাওয়ার পর তারা কিছু ইয়েন ভাঙিয়ে খরচও করেন। তারা কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে সীতাকুণ্ড জলপ্রপাত দেখার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সীতাকুণ্ড পৌঁছালে মোহাম্মদপুর থানার একটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করে। প্রত্যয়ের বিরুদ্ধে একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
