আবারও বিতর্কিতদের হাতে ব্যাডমিন্টন!

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৩৪ এএম

২২ মে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বহুল আলোচিত নির্বাচন। গত বছর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) উদ্যোগ নিয়েছিল নির্বাচনের। তফসিলও ঘোষণা করেছিল তাদের গড়া নির্বাচন কমিশন। দুটি প্যানেল নির্বাচনমুখী হওয়ায় নির্ধারিত দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলরদের কেউই ব্যালট বাক্সে রায় দেননি। বিষয়টিতে ভীষণ ক্ষেপেছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বাধ্য হয়ে এনএসসির পরিচালক শাহজাহান সরদারকে সাধারণ সম্পাদক করে এডহক কমিটি করে দেন প্রতিমন্ত্রী। সেই এডহক কমিটিও পারেনি নির্বাচন আয়োজন করতে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহকে এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হলে তিনি নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। এখন এই নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের খেলা। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন প্রহসনের নির্বাচনের দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জোবায়দুর রহমান রানা ও আমির হোসেন বাহার। অথচ অতীতে দুজনই ফেডারেশনের নির্বাহী দায়িত্বে থেকে খেলাটার কোনো উন্নতি করতে পারেননি। খেলাটা তাদের হাতে কখনই দেখেনি আলোর মুখ। নির্বাচনের মেরুকরণ নিজের পক্ষে এনে আবার তারাই চাইছেন মসনদে বসতে।

সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় জোবায়দুর রহমান রানা এর আগে দুই আমলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৬-তে দ্বিতীয় মেয়াদে ছিলেন। এই দুই আমলে ব্যাডমিন্টনকে সেভাবে এগিয়ে নিতে পারেননি সাবেক এই শাটলার। বরং তার বিরুদ্ধে আছে বিরোধী পক্ষের এন্তার অভিযোগ। সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় বেশিরভাগ সময় বিদেশে অবস্থান করা, অখেলোয়াড়দের খেলোয়াড় সাজিয়ে মানবপাচার করা, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে পাঠানো, দায়িত্ব ছাড়ার সময় সব নথি গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে রানার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে কমিটির সহ-সভাপতি থেকে সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ওরফে ফোরাম) আশীর্বাদপুষ্ট বাহার। নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ফিরোজের মৃত্যুর পর নির্বাহী কমিটি সভায় বাহারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ নিয়ে বিরোধীদের আছে নিয়ম-নীতি ভঙ্গের অভিযোগ। ২০২০ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছাড়ার পর কবির সিকদার নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছিলেন বাহার। অভিযোগ আছে ফেডারেশনের প্যাডে নিজের আগের সাধারণ সম্পাদক পদবি ব্যবহার করে ভারত থেকে চার শাটলার এনে খ্যাপ খেলিয়েছেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় লিগ করতে না পারার অভিযোগও আছে বাহারের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালে রানা সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় চারজন অপরিচিত ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় একটি আসরে খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। মাসুদ আলম, মীর আহসান আলী, কমিল উদ্দিন ফুয়াদ ও মো. শাহজালাল নামে এই চারজনকে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠায় ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন। তবে এই চারজনকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে খোদ ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন (বিডব্লিউএফ)। তারা তাদের ওয়েবসাইটে চারজনের নাম উল্লেখ করে পরিষ্কার লিখে দেয়, এরা কেউই ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় না। এদের মধ্য দিয়ে মানবপাচারের শঙ্কা প্রবল এবং এই সফরে কোচ ও ম্যানেজার হিসেবে কাদের পাঠানো হয়েছেÑ সে তথ্যও জানতে চায় বিডব্লিউএফ। এ নিয়ে ২০২০ সালে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহার ক্রীড়ামন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। রানা অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। যে চারজনের কথা বলা হয়েছে তাদের তিনিও চেনেন না দাবি করে রানা বলেন, ‘এরা কেউ আমাদের ব্যাডমিন্টনের সঙ্গে জড়িত নন। এরা হয়তো জালিয়াতির মাধ্যমে গিয়েছে। আমাদের কোনো দল বিদেশ গেলে অবশ্যই তাদের জিও (সরকারের অনুমতিপত্র) থাকতে হয়। বিডব্লিউএফ এ ব্যাপারে আমাদের কখনই কিছু জানায়নি। তাছাড়া বাংলাদেশের কেউ কখনো বিডব্লিউএফ-এর কোনো আসরে খেলেনি, কারণ সেই র‌্যাংকিং আমাদের কারও ছিল না। কেউ গিয়ে থাকলে সেটা জালিয়াতির মাধ্যমে গিয়েছে।’

গত বছল নির্বাচন পন্ড হয়েছিল সমঝোতার মাধ্যমে একটি কমিটি করার লক্ষ্যে। জেলা ও বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাররাই এক হয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। রানার আশা এবার একটা সমঝোতা হয়ে যাবে, ‘২০২২ সালে নির্বাচনটা ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা হয়েছিল সমঝোতার ভিত্তিতে একটা প্যানেল হবে। সব বিতর্ক এক পাশে রেখে খেলাটাকে এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।’ তবে বাহারের কথায় মনে হচ্ছে না কোনো সমঝোতা হবে। রবিবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সংগঠনের সভা রয়েছে। সেখানেই তারা তাদের প্রার্থী ঠিক করবেন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করে বাহার বলেন, ‘রবিবার (আজ) আমাদের সংগঠনের সভায় সবকিছু চূড়ান্ত হবে। সময়ই বলে দেবে কে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবে।’

সমঝোতা হোক কিংবা নির্বাচন, যেই দায়িত্বে আসুক, সম্ভাবনাময় খেলাটা আবারও বিতর্কিতদের হাতে পড়তে যাচ্ছে। যদিও ফেডারেশনের আরেকটি পক্ষ চাচ্ছে রানা-বাহারের বলয় থেকে ফেডারেশনকে বের করে অপেক্ষাকৃত ‘কম বিতর্কিত’ ২০১০ থেকে ২০২১ এডহক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক খেলোয়াড় মাহবুবুর রবকে নির্বাহী দায়িত্বে আনতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত