রেকর্ড স্টোর ডে পালিত

গ্রামোফোন রেকর্ডের গভীরতা অনলাইনে পাওয়া যায় না

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:২৩ এএম

অন্তর্নিহিত আনন্দের সন্ধান যারা করেন, তাদের অবশ্যই গ্রামোফোন রেকর্ডের দ্বারস্থ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী। তিনি বলেন, সংগীতের সবকিছু পেতে চাইলে পুরনো যুগে ফিরে যেতে হবে। ইন্টারনেটের এই যুগে রেকর্ড গানের যে গভীরতা তা আসলে পাওয়া যায় না, আর যাবেও না। গতকাল শনিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার আর্ট গ্যালারিতে ‘ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্টোর ডে’ উপলক্ষে রেকর্ড প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, ‘১৯৬৫ কি ৬৬ সালে জীবনের প্রথম রেকর্ড যখন বের হলো, তখন রেকর্ডটি হাতে নিয়ে ভাবলাম কী অদ্ভুত বস্তু আমার হাতে। এর মধ্যে আমার গান আছে। সেই থেকে তিন-চারটি স্তর পার হয়ে আজকে আমরা উপস্থিত হয়েছি ইন্টারনেটের যুগে। এখন একটি বোতাম টিপলেই লাখ লাখ হাজার হাজার গান এসে হাজির। একটি কথা কি আমাদের ভাবার অবকাশ আছে? সে সময় যারা গান করেছেন বা শুনেছেন তারা কত কষ্ট, কত অপেক্ষা করে একটি গান করতে কিংবা শুনতে পারতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন কথা হলো, ইন্টারনেটের এই যুগে যেখানে বোতাম টিপলেই হাজার হাজার গান এসে হাজির হয়, সেখানে আরপিএম কিংবা ভাইনাল রেকর্ডের কী প্রয়োজন আছে? ইন্টারনেটে গান শোনা যায়, কিন্তু গ্রামোফোন রেকর্ডের কিংবা একটা এলপি রেকর্ডের শব্দের যে গভীরতা, যে গাম্ভীর্য, যে ডিটেইলস এটা মোটেই ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। সেজন্য আমি বলি, সংগীতের অন্তর্নিহিত অবিমিশ্র আনন্দের সন্ধান যারা করেন, তাদের অবশ্যই গ্রামোফোন বা ভাইনাল রেকর্ডের দ্বারস্থ হতে হবে।’

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘১৯৬২ সাল থেকে ঢাকায় বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখানে গান একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। সে গান ছিল গণসংগীতমূলক, দেশের গান। রবীন্দ্রসংগীত হোক, নজরুল, রজনীকান্ত, আধুনিক হোক, আমাদের সব অনুষ্ঠানে গানের বিষয় ছিল দেশের গান। এই গানের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সে সময় এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে। স্বাধীনতাসংগ্রামে আমাদের কণ্ঠশিল্পীরা বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে যারা সংরক্ষণ করেছেন, সেটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে সরকারি হোক বা অন্য কোনো সংস্থা হোক বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি এর সঙ্গে জড়িয়ে একটা বড় স্টোর করতে পারেন, সেটা হবে দারুণ একটি উদ্যোগ। একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, স্বাধীনতার পরপরই ঢাকা রেকর্ড থেকে যে একটা রেকর্ড করেছিলাম সেটি আর আমার কাছে নেই। এটি আমার দুর্ভাগ্য। আইসিআই কোম্পানি থেকে করেছিলামÑ পল্লী কবি জসীম উদদীনের গান এবং লালন ফকিরের গান। সেটিও আমার কাছে নেই।’

প্রতি বছর এপ্রিল মাসের তৃতীয় শনিবারে বিশ্বব্যাপী ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্টোর ডে উদযাপিত হয়। এ বছর দিবসটি উদযাপিত হয়েছে গত ২২ এপ্রিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও রমজানের কারণে ঢাকায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে গতকাল রেকর্ড স্টোর ডে উদযাপন করা হলো।

আলোচনা অনুষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা রেকর্ডগুলোর প্রদর্শনী হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত