শেষ ওভারে আবাহনীর কাছে পরাজয় মোহামেডানের

আপডেট : ০১ মে ২০২৩, ০৬:১৩ পিএম

খেলা শেষ হতে তখনও ৩০ বল বাকি। আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বল তুলে নেন হাতে। প্রথম বলেই আরিফুল হক মারলেন ছয়। ব্যবধান কমে আসে মোহামেডানের। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন মাত্র ৩৯ রান। ম্যাচটা প্রায় নিজেদের হাতেই নিয়ে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয় বলে দ্রুত দুটি রান নিতে গেলেন। শেষের রান নিতে গিয়ে দাগ স্পর্শ করার আগের আফিফ হোসেন থ্রোয়ে ভেঙে যায় আরিফের স্টাম্প।

তার এই আউটটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটির। তবে শেষ দিকে জমে উঠেছিল খেলা। রূপ নিয়ছিল নাটকীয়তায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মোহামেডানকে।

মিরপুর শের-ইবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ২৫৮ রান করে আবাহনী। ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ব্যর্থ মোহামেডানের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস (১) ও সৌম্য সরকার (৮)। ব্যর্থ হয়েছেন শ্রীলঙ্কান কামিন্দু মেন্ডিসও (১)। ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও আরিফুল ইসলামের ব্যাটে পথ খুঁজে পায় মোহামেডান। ৩০ রান করা আরিফুলকে আউট করে নিজের তৃতীয় শিকার তুলে নেন তানজিম হাসান সাকিব।

৮৫ রানে ৪ উইকেট হারালেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলকে টেনে নেন অঙ্কন। এই কিপার ব্যাটার ফিফটি ছুঁয়েছেন ৮৩ বলে। ফিফটির পর অবশ্য একটু হাত খুলে খেলেন অঙ্কন। এগোচ্ছিলেন লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে।

আগের ম্যাচে ৯৬ রানে আউট হওয়া অঙ্কন আজ আউট হন ১১৩ বলে ৮৮ রান করে। তার বিদায়ে ভাঙে রিয়াদের সাথে ৮৭ রানের জুটি। এরপর ফিফটি হাঁকানো রিয়াদও শিকার হন মোসাদ্দেকের। রিয়াদের ব্যাটে ৬৩ বলে ৫৪ রান। ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারানো মোহামেডানের জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৬৩ রান।

শেষদিকে ৩ ছক্কায় ১৪ বলে ২৬ রান করেন আরিফুল হক। এরপর আর প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি মোহামেডান। ১৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন শুভাগত হোম। মোহামেডানকে ২৫০ রানে আটকানোর পথে ৫১ রানে ৪ উইকেট নেন মোসাদ্দেক। ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব।

মোসাদ্দেক হসেন সৈকত (৬৩) ও জাকের আলি অনিকের (৬৩) জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটে ২৫৮ আবাহনীর। জবাবে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৮৮ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৫৪ রানে পরও জিততে পারেনি মোহামেডান। থেমেছে ৯ উইকেটে ২৫০ রানে। ব্যাট হাতে ৬৩ রান করা মোসাদ্দেক বল হাতেও নেন ৪ উইকেট, হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

আগে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি আবাহনীর টপ অর্ডাররা। তবে মিডল অর্ডারদের দায়িত্বশীল ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তাতেই জয় দিয়ে ‍সুপার লিগে যাত্রা শুরু আবাহনীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত