মার্কিন ব্যবসায়ীদের বড় বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৩ মে ২০২৩, ০৫:৩৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বৃহত্তর বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও প্রস্তাব করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব : স্মার্ট প্রবৃদ্ধির জন্য লক্ষ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বাসস

এর আগে গত সোমবার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধে কখনো খেলাপি হয়নি এবং ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়েনি। তিনি ডিজিটাল ও ভৌত অবকাঠামোতে বিশ্বব্যাংকসহ বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, হালকা ও ভারী মেশিন, রাসায়নিক, সার, তথ্যপ্রযুক্তি, সমুদ্রসম্পদ, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ আমাদের অনেক সম্ভাবনাময় সেক্টরে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানাই।’ এসব সেক্টর ছাড়াও আরও কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যায়, মার্কিন ব্যবসায়ীদের তার সুযোগ ও সম্ভাবনা অনুসন্ধানেরও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল (ঁং.রঃপড়হহবপঃ.মড়া.নফ) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ব্যবসায়ী কাউন্সিল।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আলাদা একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (সাউথ এশিয়া) অ্যাম্বাসাডর অতুল কেশপ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সিনিয়র নির্বাহী এবং যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজানা পি ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কখনো ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়েনি বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সুযোগ এবং খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির সদর দপ্তরের শিহাতা সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব উপলক্ষে এ মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও অধিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের অংশীদারত্বের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। বিশ্বব্যাংককে অবশ্যই দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের মূল লক্ষ্যের বিষয়ে মনোযোগী থাকতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বব্যাংক এখন বাংলাদেশে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়সাপেক্ষ ৫৩টি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ অর্থ এ পর্যন্ত ব্যাংকের দেওয়া ৩৯ বিলিয়ন ডলারের অনুদান ও ঋণের অংশ। তিনি বলেন, ‘মানব পুঁজি গঠনে আমাদের কর্মক্ষমতা অবকাঠামো মেগা-প্রকল্পে আমাদের বিনিয়োগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের নিজস্ব আর্থিক ও কারিগরি সংস্থান দিয়ে ৬.১ কিলোমিটার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ আমাদের অর্থনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ।’

প্রধানমন্ত্রী পরে বিশ্বব্যাংক দপ্তরের ইস্ট ডাইনিং রুমে সংস্থার প্রেসিডেন্ট, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এবং ভাইস প্রেসিডেন্টদের (ভিপি) সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পর একটি উচ্চপর্যায়ের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন। পরে তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেস্টন অডিটরিয়ামে ‘বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের ৫০ বছর বিষয়ে প্রতিফলন’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক এবং তার এসএআর ভিপি মার্টিন রাইজার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের সঙ্গে যৌথভাবে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে কিছু অংশ ঘুরে দেখেন।

বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পরমেশ্বরণ আইয়ার, পরিচালক জুনাইদ আহমেদ কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে, বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ডক্টর আহমেদ কায়কাউস এবং অন্যান্য পরিচালকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চলতি বছর ভূ-অর্থনীতিতে কিছু বড় পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। উত্তরণকালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগুলোর প্রভাব রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বব্যাংকও ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।’

প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দারিদ্র্য হ্রাস, করোনা মহামারী মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সহিষ্ণুতা। আমরা গণহত্যার পর আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং ১৯৭১ সালে ধ্বংসের মুখে থাকা একটি অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশ্বব্যাংক অনুদান সহায়তা বাড়িয়েছে। তাদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত