তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যে ভুল করেছিল, সেটি উপলব্ধি করে এখন বাংলাদেশকে যে সর্বতোভাবে সহায়তা করতে চায়, সে জন্য আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই।’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র শ্রমিক ফেডারেশন ও প্রেস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের শেষে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে হবে। সে হিসাবে আগামী অক্টোবর মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক তাদের ভুল অনুধাবন করতে পারার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়ে ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে। আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা নেব, তা কিন্তু নয়। বিশ্বব্যাংক পরে পদ্মা সেতুতেও সহায়তা করতে চেয়েছিল, আমরা সেটি নিইনি। আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পেও ইতিপূর্বে সহায়তা করতে চেয়েছে। কোন সহায়তা নেব আর কোনটা নেব না, সেটা ঠিক করার সামর্থ্য এবং সাহস জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্জন করেছে।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইএমএফের প্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, আজকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে রোল মডেল এবং এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রয়োজন। মির্জা ফখরুল সাহেব কী বলেন আর আইএমএফের প্রধান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট কী বলেন! একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইমেজ বিশ্ব অঙ্গনে কোন সুউচ্চ স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মে দিবস স্মরণে এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার গরিব-মেহনতী মানুষের সরকার। সে কারণে আমাদের সরকার শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষকের কল্যাণে নজর দিয়েছে।’
সংবাদপত্র শ্রমিক ফেডারেশন ও প্রেস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ৯ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তাদের অনেকগুলো দাবি যৌক্তিক এবং দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি সম্ভব। এর মধ্যে নিয়মিত বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং বিনা নোটিসে চাকরিচ্যুত, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এই দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়া সম্ভব। এ জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটিকে কোন সংবাদপত্রে নিয়মিত বেতন দেওয়া হয় না তার একটি প্রতিবেদন দেওযার জন্য নির্দেশ দেব।’ তাদের প্রতিবেদনের পর সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো পূরণ করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এ সময় সংবাদপত্র শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
