ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) সংস্কার নয়, এটি বাতিলই করতে হবে। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভুক্তভোগীদের সংগঠন ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসএ দাবি করে , ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশের সবচেয়ে নিপীড়নমূলক, নিবর্তনমূলক একটি আইন। নাগরিকদের সকল অধিকারের পরিপন্থী এই আইন। এই আইনের কোন আলাদা অপপ্রয়োগ নাই। বরং এই আইনের প্রয়োগই অপপ্রয়োগ। মত প্রকাশের অধিকার জনগণের প্রথম এবং প্রধান একটি অধিকার। এটি নিঃশর্ত এবং নিরঙ্কুশ না থাকলে আর কোন একটি অধিকার থাকে না, থাকতে পারে না।
ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক গভীর উদ্বেগের সাথে জানায়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, 'সরকার প্রয়োজনে আগামী নির্বাচনের আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিছুটা সংশোধন করবে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে না এবং এই আইন থাকবে। কেবল সাংবাদিকদের জন্য আইনটি কিছুটা সহজ করা হতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক মনে করে, এই আইন কেবল সাংবাদিকদের জন্য নিপীড়নমূলক, এমনটা নয়। বরং শিশু, কিশোরসহ দেশের সকল স্তরের সাধারণ নাগরিকের জন্যও এই আইনটি একটি ভয়াবহ জুলুম। এমনকি ২ বছরের শিশুও এই আইন থেকে রেহাই পায় নাই। অন্তত ৬৮ জন শিশু-কিশোর এ আইনে ভুক্তভোগী হয়েছেন। অন্তত ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে আইনটি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত নন, এমন নাগরিকদের ওপর ব্যবহৃত হয়েছে।
ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুটি মামলায় প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। বিচারিক আদালতে দুবার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে রাষ্ট্র পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মী শহীদুল হক হায়দারী, রংপুরে পরিতোষ সরকারসহ বেশ কয়েকজনকে এই আইনে সাজা দেয়া হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সাজা দেয়া হতে পারে বগুড়ার মাওলানা আব্দুর রহমান দিদারী সহ অনেককে। তাই ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক অবিলম্বে এই আইনের বাতিল চায়। পাশাপাশি এই আইনের সকল মামলা বাতিল করে সকল সাজাপ্রাপ্ত এবং হাজতি বন্দীর অবিলম্বে মুক্তি চায়।
