আপিলে টিকলেন না জাহাঙ্গীর, যাবেন উচ্চ আদালতে

আপডেট : ০৫ মে ২০২৩, ০৩:১৬ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচিত মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল হয়ে যাওয়ার পর আপিলেও সেই আদেশ বহাল রেখেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আপিলের শুনানি শেষে আদেশ দিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শুনানিতে অংশ নেওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও সিটি নির্বাচনে মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন খান। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার বাছাইয়ে বাদ পড়া মোট সাত প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম, একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও পাঁচজন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।

আপিলের শুনানিতে দুজন আইনজীবীসহ জাহাঙ্গীর আলম নিজে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে তারা পুনঃতফসিলিকরণের জন্য টাকা জমা দেওয়া এবং জামিনদার খেলাপি হয় না বলে দাবি করেন। কিন্তু শুনানিতে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আপিলকারীরা ব্যাংকের আইন অনুযায়ী এখনো ঋণখেলাপি। জাহাঙ্গীর আলম যে প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামিনদার, সেই ঋণ এখনো পুনঃতফসিলিকরণ হয়নি। এ সময় ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন জমাদানের সময় ঋণখেলাপি ছিলেন। তাই তারা পরে টাকা জমা দিলেও তারা খেলাপি।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আপিলকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমসহ ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন।

এ সময় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম কাউন্সিলর পদে মোহাম্মদ আলী নামে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন প্রার্থীর টাকা জমার রসিদে কোড নাম্বার ভুল থাকায় বাতিল হওয়া মনোনয়নটি বৈধ ঘোষণা করেন।

গত ৩০ এপ্রিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে খেলাপি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামিনদার হওয়ার কারণে জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল করেন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে ওই কর্মকর্তা এ আদেশ দেন। তবে তার মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল হয়ে যাওয়ায় আপিলের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার অফিস খোলা হলে আদেশের সার্টিফাই কপি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী নকিব সাইফুল ইসলাম জানান, নিউ টাউন নিটওয়্যার কোম্পানি উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করে। এক মাসের মধ্য ৫ কোটি টাকা ব্যাংকে প্রদান করার শর্তে তিন মাসের জন্য সিআইবি রিপোর্ট স্থগিত রাখার আদেশ প্রদান করে হাইকোর্ট। ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করেছে। হাইকোর্টের ওই আদেশের কপিও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত সিআইবি রিপোর্টে ওই প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। যার কার্যকারিতা মূলত ২ মে থেকে শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম যে খেলাপি ঋণের জামিনদার তা গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুনঃতফসিল হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তার নাম থাকায় মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল হয়ে যাওয়ায় তার সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। কর্মীরা অধীর অপেক্ষায় ছিলেন হয়তো আপিলের রায় তার পক্ষে আসবে। তারা এখন জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনকে নিয়ে মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করছেন। এক সমর্থক জয়দেবপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, সাময়িকভাবে জাহাঙ্গীর আলমের কর্মী-সমর্থকরা কিছুটা নীরব থাকলেও উচ্চ আদালত থেকে সুবিচার পাবেন বলে আশা করছি। আপাতত সেই অপেক্ষায় থাকব। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত