ব্রহ্মপুত্র রক্ষায় সুরে সুরে প্রতিবাদ

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩, ০৬:১৯ এএম

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের কাচারীঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ‘মৃতের চিৎকার’ শিরোনামে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। কর্মসূচির মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের নামে যে প্রহসন চলছে তার প্রতিবাদ জানানো হয়। আয়োজনের পুরোটা জুড়ে চলে গান, কবিতা, ঝাঁপাঝাঁপি, আহাজারি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক নেতারাও সংহতি প্রকাশ করে হাঁটুজলে নেমে চিৎকার করে প্রতিবাদ করেন।

নদের মধ্যে একটি টেবিলে সব ধরনের খাবার থাকলেও ছিল না শুধু পানি। ব্রহ্মপুত্রের চারিদিকে সবকিছু আছে; যেন পানির অভাবে সে ক্ষুধার্ত। নানা আর্তনাদ লেখা প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয় নদে।

প্রতীকী এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ময়মনসিংহ নগর এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে তরুণ-তরুণীরা যোগ দেন।

তাদের দাবি, ২০১৯ সালে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দে ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্প শুরু হয়। প্রথমে খনন করা হয় নগরের কাচারীঘাট এলাকায়। এর পরের বছর থেকে শুষ্ক মৌসুমে চর জাগছে নদে। অথচ খননের আগেও কখনো এমন চর দেখা যায়নি। ব্রহ্মপুত্রে কখনো এত কম পানি ছিল না।

তারা আরও বলেন, খননের নামে আসলে ব্রহ্মপুত্র নদকে মেরে ফেলা হচ্ছে। খনন করে বালু নদের পাড়ে রাখার কারণে সেসব এলাকা অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। যে কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মরে গেছে।

আয়োজনের উদ্যোক্তা সংস্কৃতি কর্মী শামীম আশরাফ বলেন, ‘শিল্পের মানুষের চিন্তা নিয়ে সমন্বিতভাবে মৃতের চিৎকার আয়োজন করা হয়েছে। খননের পর ব্রহ্মপুত্রে শুধু বালু আর বালু। আমরা এমন বালুর সৌন্দর্য চাই না। আমরা চাই স্রোতস্বিনী ব্রহ্মপুত্র নদ। প্রতীকী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা ব্রহ্মপুত্রকে মেরে ফেলার প্রতিবাদ করছি। মৃত ব্রহ্মপুত্রের হয়ে চিৎকার করছি। আমরা চাই, আমাদের এ চিৎকার কারও কাছে পৌঁছাক।’

জানা গেছে, দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয় খননকাজ। প্রায় ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদের ২২৭ কিলোমিটার খনন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। খননের পর যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে কিশোরগঞ্জের টোক পর্যন্ত নদটি ৩০০ ফুট প্রশস্ত ও শুস্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর থাকবে এমনটি কথা ছিল। ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য উন্নয়নে ড্রেজিং’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রথম দুই বছর নদের ড্রেজিং এবং পরবর্তী তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার কথা ছিল।

খননের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন মিয়া মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৯ সালে কাচারীঘাট এলাকায় খনন হয়। তবে বর্ষাকালে উজান থেকে পলি এসে নদে চর পড়ছে। সম্প্রতি আমি ওই এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দুই-এক দিনের মধ্যে আবারও ওই এলাকায় খননকাজ শুরু হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত