মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

পাঁচ সিটির নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ইসির (নির্বাচন কমিশন) হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের পরিবেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার আগেভাগেই তৎপরতা শুরু করেছে ইসি। প্রশ্ন হলো, তাদের এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত কতটুকু কার্যকর হবে? কারণ, বর্তমান ইসির অধীন গত এক বছরে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া গত এক দশকে নির্বাচন নিয়েই মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোট। আর আগামী ১২ জুন খুলনা ও বরিশাল এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট হবে। পাঁচ সিটির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে। তখন অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়েও ছিল বড় ধরনের বিতর্ক।

দেশ রূপান্তরে শনিবার ‘আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিযোগিতায় মন্ত্রী এমপি ও প্রার্থীরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দফায় দফায় সতর্কতার পরও থামছে না আচরণবিধি না মানার এ প্রবণতা। যা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

২০১৮ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তৎকালীন ইসির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারা। তখন মামলা, গ্রেপ্তার, হুমকিসহ নানা কৌশলে ভোটের আগেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠছাড়া করার অভিযোগ উঠেছিল। ইসি ছিল চুপচাপ এবং তাদের ভূমিকা তখন প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। বর্তমান কমিশনের অধীন এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত হাবিবুল আউয়াল কমিশনকে খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়নি। তারপরও তাদের অধীন অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে।

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রচার শুরু হওয়ার পর মূলত কমিশনের পরীক্ষা শুরু হবে। পাঁচ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি প্রতিপালনের অনুরোধ জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে ইসি। আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পাঁচ মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুধু চিঠি বা নির্দেশনা দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না। এজন্য ইসিকে আইনে তাদের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার প্রয়োগ করতে হবে। নিজেদের কর্মপরিকল্পনায় সুষ্ঠু ভোটের বাধা উত্তরণে যেসব উপায়ের কথা ইসি বলেছিল, তার অন্যতম হলো, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ, আচরণবিধি ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া।

গত এক বছরে ইসি কার্যকর ভূমিকা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখাতে পারেনি। আর তদন্তের নামে তারা রাঘববোয়ালদের ছেড়ে দিয়ে চুনোপুঁটিদের দোষী করেছিল। তাই যেভাবে গর্জন হচ্ছে, সেভাবে বর্ষণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। অন্যদিকে, গাজীপুরে এভাবে গণহারে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ইসিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পাঁচ সিটির ভোট নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় পরীক্ষা। ইসি এই সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ফেরানোর তাগিদ অনুভব করবে বলে আশা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত