অনুমতি ছাড়া ছবি ও বক্তব্য প্রচার গুরুতর অন্যায়

আপডেট : ০৮ মে ২০২৩, ১২:১৫ এএম

যেকোনো বৈঠক কিংবা মজলিসের কথাবার্তা আমানত, তথ্য ফাঁস করে দেওয়া গুরুতর অন্যায় ও খেয়ানত। অনেক সময় এমন হয়, আমাদের মাঝে কেউ একটা কথা বলেছে। মুখে হয়তো কাউকে জানানোর জন্য নিষেধ করেনি, কিন্তু তার ভাব-ভঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে সে চায় না কথাটি অন্যরা জানুক, তাহলে তার কথাটি আমানতস্বরূপ থাকবে এবং এটাকে আমানতের মতোই হেফাজত করতে হবে। নতুবা খেয়ানত হবে।

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি কারও কাছে কিছু বলার সময় এদিক-ওদিক তাকায়, তখন এ কথা শ্রোতার জন্য আমানত হয়ে যায়। -জামে তিরমিজি : ১৯৫৯

তবে হ্যাঁ, সেটি যদি অন্য কারও হক নষ্ট, ষড়যন্ত্র বা ক্ষতি সাধনমূলক কিছু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই জানিয়ে দেওয়া জরুরি। নবী কারিম (সা.) সেই নির্দেশও দিয়েছেন।

হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, সব মজলিস আমানতস্বরূপ। অর্থাৎ কোনো মজলিসে গোপনীয়তার সঙ্গে যে পরামর্শ অথবা সিদ্ধান্ত হয়, মজলিসে উপস্থিত লোকজন যেন এটাকে আমানত মনে করে গোপন রাখে। কিন্তু তিনটি মজলিসের বিধান এর ব্যতিক্রম।

এক. যে মজলিসের সম্পর্ক কারও অন্যায় হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে।

দুই. যে মজলিসে কারও সম্ভ্রমহানির পরামর্শ করা হয়।

তিন. যে মজলিসের সম্পর্ক অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে। -সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৬৯

অভিজ্ঞ আলেমরা আরও বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তুলে ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা বয়ান রেকর্ড করে প্রচার করে দেওয়ার মতো কাজগুলোও খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।’ -ইসলাহি খুতুবাত : খণ্ড-৩

এ ছাড়া আরও বহুভাবে আমানতের খেয়ানত হতে পারে। মুফতি তাকী উসমানী বলেন, চাকরির নির্ধারিত সময়ে অন্য কাজ করা, পদ-পদবি ও দাপ্তরিক দায়িত্বে অবহেলা, অপব্যবহার করা, অফিসের আসবাবপত্র ও সরকারি জিনিসপত্র ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সবই খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। তেমনি যে সড়কে আমরা চলাচল করি তা আমাদের কাছে আমানত। যেই বাস বা ট্রেনে ভ্রমণ করা হয় তাও আমানত। ঘর বা বাসাভাড়া নেওয়া হয়, সেটিও মালিকের পক্ষ থেকে আমানত। কাজেই এসবের ব্যবহার করতে হবে বৈধ উপায়ে। নয়তো খেয়ানতের গোনাহ হবে। -ইসলাহি খুতুবাত : খণ্ড-৩

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত