অন্যায়ের পক্ষপাতিত্ব পাপের কাজ অন্যায় ও মিথ্যার সহায়তা কিংবা পক্ষপাতিত্ব করা খেয়ানত। এমনকি কারও দাবির বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার পক্ষে সাক্ষ্য কিংবা সাফাই গাওয়াও এক ধরনের খেয়ানত। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর আপনি খেয়ানতকারীদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না।’ -সুরা আন নিসা : ১০৫
আল্লাহতায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘আর যারা নিজেদের সঙ্গেই খেয়ানত করে আপনি তাদের পক্ষে বাগ্বিতণ্ডা করবেন না। আল্লাহ কোনো খেয়ানতকারী পাপিষ্ঠকে পছন্দ করেন না।’ -সুরা আন নিসা : ১০৭
অন্যায়ের পক্ষপাতিত্ব যেমন হতে পারে ব্যক্তির ক্ষেত্রে, হতে পারে নির্দিষ্ট গোত্র অথবা দলের ক্ষেত্রেও। কারণ, একজন আমার প্রতি পূর্ণ আস্থার সঙ্গে আমার কথা শুনছে কিংবা আমার দেওয়া তথ্য গ্রহণ করছে, কারণ আমি একজন মুসলিম। অথচ তার সঙ্গে বলা হলো মিথ্যা, অথবা চালিয়ে দেওয়া হলো মিথ্যা তথ্য। এটি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয় তো কী? উপরন্তু এটি নিজের ব্যক্তিত্বকেও তো প্রশ্নবিদ্ধ করে। হাদিসে একে ‘অনেক বড় খেয়ানত’ বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা অনেক বড় খেয়ানত যে, তুমি তোমার ভাইকে কোনো কথা বলছ, সে এটাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নিচ্ছে, অথচ তুমি এতে মিথ্যাবাদী।’ -সহিহ বোখারি : ৩৯৩
তবে কোনো অবস্থাতেই খেয়ানতকারীর সঙ্গে খেয়ানতসূলভ কাজ করা যাবে না। খেয়ানতের জবাব খেয়ানত দেয়ে দেব না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার আমানত আদায় করে দাও! যে তোমার সঙ্গে খেয়ানত করেছে তার সঙ্গেও খেয়ানত করো না!’ -জামে তিরমিজি : ১২৬৪
