আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান। মঙ্গলবার (০৯ মে) ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত জাতীয় ব্যুরো (এনএবি)।
এদিন পিটিআই চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে নথিভুক্ত একাধিক এফআইআরে জামিন চাইতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রেঞ্জার্সকর্মীরা তাকে হেফাজতে নেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কালো গাড়িতে করে নিয়ে যায়।
জিও নিউজের মতে, পিটিআই চেয়ারম্যান আদালতে বায়োমেট্রিক করতে যাওয়ার সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এনএবি কর্মকর্তাদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
ইমরানের বিরুদ্ধে গত ১ মে ওয়ারেন্ট জারি করেন এনএবি চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নাজির আহমেদ বাট। বিবরণ অনুযায়ী, তাকে জাতীয় জবাবদিহি অধ্যাদেশ ১৯৯৯-এর ৯এ ধারার অধীনে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা
পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার। অভিযোগ, পিটিআই সরকারের আমলে ইমরান ও তার স্ত্রী অবৈধভাবে ৫০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি এবং কয়েক শত কানাল জমি গ্রহণ করেছেন।
গত ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ অভিযোগ করেন, একটি মানি লন্ডারিং মামলায় রিয়েল এস্টেট ফার্ম বাহরিয়া টাউনকে ‘সুরক্ষা প্রদানের’ বিনিময়ে ইমরান খান ও তার স্ত্রী জমি এবং নগদ অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। ফার্মটি যুক্তরাজ্যে এক পাকিস্তানি নাগরিকের কাছে অবৈধভাবে ৫০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি স্থানান্তর করে।
সানাউল্লাহ বলেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি অবৈধভাবে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। তার দাবি, এই ৫০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এবং জাতীয় কোষাগারের অন্তর্গত।
সানাউল্লাহর বরাত দিয়ে সে সময় দ্য ডন জানায়, বাহরিয়া টাউন তার ৫০ বিলিয়ন রুপি সরকার দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ার পরে একটি চুক্তি করে যেখানে ইমরান এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ট্রাস্টকে ৪৫৮ কানাল (৮ কানালে ১ একর) জমি বরাদ্দ দেয়, যার কাগজে কলমে মূল্য ৫৩০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি।
