প্রতীক পেয়ে প্রচারণা শুরু প্রার্থীদের

আপডেট : ১০ মে ২০২৩, ০৫:৫৬ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন।

এদিকে প্রতীক পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। রিটার্নিং অফিসারের হাত থেকে প্রার্থীরা নিজ পছন্দের প্রতীক নিয়ে এলাকায় চলে যান। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৮ জন, ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭৮ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে  ২৪৩ জন প্রার্থীসহ সর্বমোট ৩২৯ জন প্রার্থী লড়ছেন। 

মেয়র পদে দলীয় প্রতীক ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীক থেকে তাদের পছন্দের প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্ধারিত প্রতীক থেকে তাদের পছন্দের এবং একই প্রতীক একাধিক প্রার্থীর দাবি থাকলে ওই ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আজমতউল্লা খানের দলীয় প্রতীক (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন দলীয় প্রতীক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান পেয়েছেন (হাতপাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী মো. অলিউর রহমান (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন (টেবিল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম (হাতি) প্রতীক, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম (মাছ) প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশীদ (ঘোড়া) বরাদ্দ পেয়েছেন।

প্রতীক পেয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি চান্দনা চৌরাস্তায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর জেলা ও মহানগর যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। পরে তিনি নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণায় যান।

আজমতউল্লা খান বলেন, জনগণের সেবার যে কাজগুলো আছে, অধিকারগুলো আছে তা সুনিশ্চত করার জন্য আমি আপনাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। আমরা আজ এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করছি। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচারণা চালাবে।

সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন রিটার্নিং অফিসারের হাত থেকে তার পছন্দের (টেবিল ঘড়ি) প্রতীক বুঝে নেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নগরবাসীর কাছে মেয়র পদে (টেবিল ঘড়ি) প্রতীকে একটি ভোট চাচ্ছি এবং সবার সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি একটি সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তার সমর্থনে অডিটরিয়ামের বাইরে শত শত কর্মী-সমর্থক ঘড়ি ঘড়ি বলে সেøাগান দিতে থাকেন। পরে তিনি ওখানে কিছুক্ষণ থেকে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ঠেলে তার নিজ বাড়ি পার্শ্ববর্তী কানাইয়া এলাকায় যান। এ সময় সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মায়ের সঙ্গেই ছিলেন। তিনিও মায়ের জন্য ভোট চান।

লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি আশা করি ওই নির্বাচনে আমরা (লাঙ্গল) জয়ী হব। আমি নির্বাচিত হতে পারলে একটি সুন্দর সিটি করপোরেশন গড়ে তুলব। একটি সুন্দর নগরী হবে, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম নিয়ে জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে তা দূর করতে হবে। ২৫ মে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর থেকে কঠোর আন্দোলনের সূচনা হবে।

গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এদের মধ্যে ১৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এখানে ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজ গাজীপুরে যাচ্ছেন : প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল আজ বুধবার গাজীপুরে আসবেন। তিনি প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি রোডে পিটিআই শহীদ আহসান উল্লা মাস্টার অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন।

১৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ : এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জন্য ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ থেকে ভোট গ্রহণের দুদিন আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ৯ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাবেন তারা। এ ছাড়া নির্বাচনে আচারণবিধি প্রতিপালনে দায়িত্ব পালনের জন্য আরও তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত