রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসা থেকে কুদরত-ই খোদা হৃদয় (২৪) নামে যমুনা টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কলাবাগান লেকসার্কাস রোডের ৯৫ নম্বর বাড়ির ছাদের পাশের রুম থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ওই রুমে হৃদয় একাই থাকতেন। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
মৃত হৃদয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের নিউজ রুম এডিটর ছিলেন। পরিবার বলছে, এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল হৃদয়ের। এ নিয়ে হৃদয় হতাশায়ও ভুগছিলেন। পুলিশও ধারণা করছে, প্রেমঘটিত কারণেই অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন হৃদয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেমিকা মেহজাবিন প্রত্যাশাকে আটক করা হয়েছে।
হৃদয়ের মামা ফেরদৌস হাসান জানান, হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর। তার বাবার নাম আরিফ আহমেদ মিঠু। মেহজাবিন প্রত্যাশা নামে এক মেয়ের সঙ্গে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার রাতে হৃদয় তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় প্রত্যাশাকে নিয়ে অনেক হতাশার কথা বলে। তখন হৃদয়ের মা তাকে বিভিন্নভাবে সান্ত¡না দেন। গতকাল সকালে প্রত্যাশা নিজেই হৃদয়ের ফোন থেকে হৃদয়ের মাকে ফোন দিয়ে জানায়, হৃদয় আর নেই। তবে বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস করেননি তারা। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হন, হৃদয় মারা গেছেন। তিনি জানান, গতকাল ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রত্যাশা বেশ কয়েকবার হৃদয়ের বাসায় যায় এবং আবার বেরিয়ে আসে। তখন তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সবশেষ সকাল ৯টার দিকে প্রত্যাশা হৃদয়ের মৃত্যুর খবর দেয় তাদের।
হৃদয়ের সহপাঠী নিলয় বিশ্বাস জানান, ২০১৮ সালে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজম বিভাগে ভর্তি হন হৃদয়। ২০২১ সালে অনার্স শেষ করার পর মাস্টার্সে ভর্তি হন। এরপরই যমুনা টিভির নিউজ রুম এডিটর হিসেবে যোগ দেন। মেহজাবিন প্রত্যাশা নামে ওই তরুণীর সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি হৃদয়ের পরিবারও জানত। হৃদয়ের বাসায় যাতায়াত ছিল প্রত্যাশার। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হৃদয় তাদের একটি গ্রুপে হতাশামূলক কিছু কথা লেখেন। তবে রাতে সেটি কেউ খেয়াল করেনি। সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনতে পান। মানসিক কোনো চাপ থেকেই হৃদয় আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা তাদের।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সজীব উল্লেখ করেন, ছাদের রুমটিতে শায়িত অবস্থা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হৃদয়ের গলার বাম পাশে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ আছে। তিনি ফ্যানের সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তবে আটক তরুণী প্রত্যাশা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানিয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত তারা দুজনে একত্রে ছিল। একসঙ্গে ঘুরেছে। তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে। পরে যে যার মতো বাসায় চলে যায়।
কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আহমেদ জানান, প্রেমঘটিত কারণে হৃদয় আত্মহত্যা করতে পারেন। হৃদয়ের লাশ উদ্ধারের সময় মেহজাবিন প্রত্যাশা সেখানে ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পরিবার অভিযোগ করলে সেটি নেওয়া হবে।
