গাজীপুরে সিইসি

বিশ্ব তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৪:৫৯ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। আমরা তাদের মুখ চেপে ধরতে পারছি না। যদি সম্ভব হতো মুখ চেপে ধরতে পারতাম। কিন্তু মুখ চেপে ধরতে পারব না। পৃথিবীটা এখন উন্মুক্ত। আমাদের নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা কথা বলছে, ইউকে কথা বলছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাপান কথা বলছে, এমনকি জাতিসংঘও কথা বলছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে শুধু আমরা না, সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, গাজীপুরে যে নির্বাচনটা হবে এটা নির্বাচন কমিশনের কাছে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এর আগে খুব বড় পরিসরের একটা নির্বাচন জাতীয়ভাবে অনেক গুরুত্ব বহন করবে বলে আমরা মনে করি। এ জন্যই গাজীপুর নির্বাচনটা একটি মডেল হোক। আপনাদের সহযোগিতায় সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে এ নির্বাচনটা যেন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। আমরা যেন একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারি।

গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি রোডে পিটিআই শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার অডিটরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল হাসান। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমতউল্লা খান, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) গাজী আতাউর রহমান, গণফ্রন্টের (মাছ) আতিকুল ইসলাম, জাকের পার্টির (গোলাপফুল) রাজু আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি ও হারুন অর রশীদ।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা এককভাবে কিছুই করতে পারব না। যদি আমাদের প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব শক্তভাবে এবং পেশাগতভাবে পালন করে না থাকেন। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নিশ্চয়তা দেব এবং আমাদের তরফ থেকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করা হবে যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আপনারা যেমন আমাদের সহায়তা চাইছেন আমরাও আপনাদের সহায়তা চাই। এটা হচ্ছে পারস্পরিক।

ইভিএমের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএমের ওপর আপনারা আস্থা রাখুন। এখানে উপস্থিতি কম মনে হতে পারে আবার ব্যালটে উপস্থিতি অনেক বেশি মনে হয়। ব্যালটে অনেক সময় ১১০ ভাগও ভোট হয়ে যায়। সেটা কিন্তু ভালো উপস্থিতি না। ইভিএমে যে উপস্থিতিটা হবে সেটা অনেক সূক্ষ্ম উপস্থিতি।

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমতউল্লা খান বলেন, গাজীপুর সিটিতে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট হচ্ছে। ইভিএমে যারা ভোটগ্রহণ করবেন তাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে কিন্তু যারা ভোট দেবেন তাদের জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইভিএমের সিস্টেমটা তুলে ধরতে পারলে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারবেন।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিগত দিনের অনেকগুলো নির্বাচন মানুষের কাছে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এ জন্য মানুষজন আশঙ্কা করে নিরপেক্ষ ভোট হবে কি না।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা এ ঘোষণা চাই- যদি আমরা গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হই তাহলে আমরা পদ্যত্যাগ করব।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনসহ আটজন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত